॥ অধ্যায় ৮, শ্লোক ২ ॥

অধিযজ্ঞঃ কথং কোঽত্র দেহেঽস্মিন্মধুসূদন ।
প্রয়াণকালে চ কথং জ্ঞেয়োঽসি নিয়তাত্মভিঃ ॥ ৮.২ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে মধুসূদন! এই দেহে অধিযজ্ঞ কে এবং তিনি কীভাবে অবস্থান করেন? আর মৃত্যুর সময় জিতেন্দ্রিয় ব্যক্তিরা তোমাকে কীভাবে জানতে পারেন?

১. অধিযজ্ঞের জিজ্ঞাসা: যজ্ঞের প্রধান ভোক্তা বা ফলদাতা কে? তিনি কি শরীরের ভেতরেই থাকেন নাকি বাইরে? অর্জুন জানতে চান আমাদের প্রতিটি কাজের সাক্ষী এবং ফলদাতা কে।

২. মৃত্যু ও স্মৃতি: অর্জুনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো মৃত্যুর সময় ভগবানকে কীভাবে মনে রাখা যায়। কারণ মৃত্যুর যন্ত্রণা ও মোহের মধ্যে মনকে স্থির রাখা সাধারণ মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব।

৩. মধুসূদন সম্বোধন: এখানে অর্জুন ‘মধুসূদন’ (মধু নামক অসুর বিনাশকারী) সম্বোধন করেছেন। এর তাৎপর্য হলো—কৃষ্ণ যেমন অসুর বিনাশ করেন, তেমনি তিনি যেন অর্জুনের মনের সংশয় রূপী অসুরকেও বিনাশ করেন।

এই শ্লোকটি মানুষের জীবনের অন্তিম লক্ষ্য সম্পর্কে সচেতন করে। আমরা সারাজীবন কী করলাম তার চেয়ে বড় পরীক্ষা হলো শেষ মুহূর্তে আমাদের মনে কী চিন্তা থাকে। অর্জুন বুঝতে পারছেন যে সারা জীবন সাধনা করলেও যদি মৃত্যুকালে বিচ্যুত হতে হয়, তবে সব পণ্ড।

জিতেন্দ্রিয় বা ‘নিয়তাত্মভিঃ’ ব্যক্তিরা কেন মৃত্যুকালেও শান্ত থাকতে পারেন? অর্জুন সেই গুহ্য কৌশলটি কৃষ্ণের কাছ থেকে জানতে চাইছেন। এটি কেবল অর্জুনের প্রশ্ন নয়, এটি প্রতিটি মরণশীল মানুষের চিরন্তন জিজ্ঞাসা।

অধিযজ্ঞ বা যজ্ঞের মালিক হিসেবে পরমাত্মা আমাদের হৃদয়েই বাস করেন—এই ধারণার ইঙ্গিত এখানে পাওয়া যায়। অর্জুন এখানে শরীরের সাথে ঈশ্বরের সংযোগটা বুঝতে চাইছেন। এই শ্লোকটি অধ্যাত্মবিদ্যার প্র্যাকটিক্যাল দিকগুলো তুলে ধরে।