শ্রীভগবানুবাচ ।
অক্ষরং ব্রহ্ম পরমং স্বভাবোঽধ্যাত্মমুচ্যতে ।
ভূতভাবোদ্ভবকরো বিসর্গঃ কর্মসংজ্ঞিতঃ ॥ ৮.৩ ॥
সরল ভাবার্থ:
শ্রীভগবান বললেন—পরম অবিনাশী তত্ত্বই হলো ব্রহ্ম, তাঁর সনাতন সত্তাই অধ্যাত্ম এবং প্রাণীদের উৎপত্তি ও বৃদ্ধির কারণ স্বরূপ যে ত্যাগ বা যজ্ঞ, তাই কর্ম নামে পরিচিত।
১. অক্ষর ব্রহ্ম: যা কখনো ক্ষয় হয় না, যার বিনাশ নেই—সেই পরম সত্যই হলো ব্রহ্ম। তিনি দেশ ও কালের ঊর্ধ্বে। তিনি জগতের আদি কারণ।
২. স্বভাব ও অধ্যাত্ম: জীবের ভেতরে যে শুদ্ধ আত্মা বা চেতনা থাকে, যা শরীর ও মনকে নিয়ন্ত্রণ করে, তাকেই বলা হয় অধ্যাত্ম। এটি ব্রহ্মেরই এক অংশ যা প্রতিটি জীবের স্বভাবে বিরাজ করে।
৩. সৃষ্টির কর্ম: জগত সৃষ্টির জন্য এবং প্রাণীদের টিকে থাকার জন্য যে মহাজাগতিক ত্যাগ বা বিসর্গ করা হয়, তাকেই বলা হয় কর্ম। এটি কেবল মানুষের কাজ নয়, এটি সমগ্র প্রকৃতির এক সৃষ্টিশীল প্রক্রিয়া।
শ্রীকৃষ্ণ এখানে ব্রহ্মের এক চূড়ান্ত সংজ্ঞা দিলেন। ‘অক্ষর’ মানে হলো যা কখনো বদলায় না। জগত বদলে যায়, শরীর ধ্বংস হয়, কিন্তু ব্রহ্ম অটল। এই ব্রহ্মকে জানলে মানুষের আর কোনো ভয় থাকে না।
অধ্যাত্ম মানে হলো নিজের আত্মাকে জানা। আমরা প্রায়ই বাইরের জগত নিয়ে ব্যস্ত থাকি, কিন্তু আমাদের স্বভাব বা ‘Nature’ কী, তা খুঁজি না। কৃষ্ণ বলছেন আমাদের অন্তরের সত্য সত্তাই হলো অধ্যাত্ম।
কর্মের ব্যাখ্যাটি এখানে অত্যন্ত গভীর। বিসর্গ মানে উৎসর্গ করা। ঈশ্বর যখন নিজেকে জগত রূপে প্রকাশ করেন, সেটিই হলো আদি কর্ম। সৃষ্টির প্রতিটি কাজে এক প্রকার ত্যাগ জড়িয়ে থাকে। আমাদেরও উচিত আমাদের প্রতিটি কাজকে সেই ত্যাগের সাথে যুক্ত করা।