॥ অধ্যায় ৮, শ্লোক ৪ ॥

অধিভূতং ক্ষরো ভাবঃ পুরুষশ্চাধিদৈবতম্ ।
অধিযজ্ঞোঽহমেবাত্র দেহে দেহভৃতাং বর ॥ ৮.৪ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে দেহধারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ অর্জুন! নশ্বর পদার্থসমূহকে বলা হয় অধিভূত, হিরণ্যগর্ভ বা ব্রহ্মা হলেন অধিদৈবত এবং এই দেহেই অধিযজ্ঞরূপে আমি (পরমাত্মা) বাস করছি।

১. ক্ষরো ভাব বা অধিভূত: আমাদের চারপাশের যা কিছু ধ্বংসশীল—ঘরবাড়ি, শরীর, গাছপালা—সবই হলো অধিভূত। এটি প্রকৃতির জড় রূপ যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে।

২. অধিদৈবত বা হিরণ্যগর্ভ: দেবতাদের অধিপতি বা মহাজাগতিক শক্তির নিয়ন্ত্রক হলেন অধিদৈবত। এটি ব্রহ্মার সেই রূপ যা দিয়ে তিনি ব্রহ্মাণ্ড সৃষ্টি ও পরিচালনা করেন।

৩. অধিযজ্ঞ বা অন্তর্যামী: যজ্ঞের মূল ভোক্তা এবং প্রতিটি জীবের হৃদয়ে সাক্ষী রূপে অবস্থানকারী পরমাত্মাই হলেন শ্রীকৃষ্ণ নিজে। তিনিই আমাদের প্রতিটি কাজের ফল প্রদান করেন।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে জগতকে তিনটি স্তরে ভাগ করে বোঝালেন। প্রথম স্তরটি হলো পরিবর্তনশীল জড় জগত (অধিভূত)। এটি আমরা চোখে দেখি। দ্বিতীয় স্তরটি হলো দেবতাদের নিয়ন্ত্রণ বা সূক্ষ্ম শক্তি (অধিদৈবত)।

তৃতীয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো অধিযজ্ঞ। কৃষ্ণ বলছেন, আমি তোমার দেহের ভেতরেই আছি। অর্থাৎ ঈশ্বর আমাদের থেকে দূরে কোথাও নেই, তিনি আমাদের প্রতিটি নিঃশ্বাসের সাথে জড়িয়ে আছেন।

অর্জুনকে ‘দেহভৃতাং বর’ বলে সম্বোধন করে কৃষ্ণ বুঝিয়ে দিলেন যে মানুষ হিসেবে তিনি শ্রেষ্ঠ হওয়ার যোগ্য কারণ তিনি এই সত্যগুলো জানার চেষ্টা করছেন। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে পুরো ব্রহ্মাণ্ড আসলে ভগবানেরই বিভিন্ন প্রকাশ।