অন্তকালে চ মামেব স্মরন্মুক্ত্বা কলেবরম্ ।
যঃ প্রয়াতি স মদ্ভাবং যাতি নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ ॥ ৮.৫ ॥
সরল ভাবার্থ:
যিনি অন্তিমকালে আমাকে স্মরণ করতে করতে দেহত্যাগ করেন, তিনি আমারই স্বরূপ বা ধাম প্রাপ্ত হন। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
১. অন্তিম স্মরণের গুরুত্ব: মৃত্যুর মুহূর্তে মনের অবস্থা অত্যন্ত জটিল হয়। কিন্তু সেই সময় যদি কেউ একাগ্রচিত্তে শ্রীকৃষ্ণকে স্মরণ করতে পারে, তবে তাঁর মুক্তি সুনিশ্চিত।
২. মদ্ভাব বা ভগবদ্ প্রাপ্তি: ভগবানের স্মরণে দেহত্যাগ করলে আত্মা জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে মুক্ত হয়ে ভগবানের ধামে ফিরে যায়। এটিই মানব জীবনের চরম সার্থকতা।
৩. নাস্ত্যত্র সংশয়ঃ: শ্রীকৃষ্ণ এখানে গ্যারান্টি দিচ্ছেন। তিনি বলছেন এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। তাঁর এই অভয় বাণী কোটি কোটি ভক্তকে মৃত্যুর ভয় থেকে মুক্তি দিয়েছে।
এই শ্লোকটি সমগ্র ধর্মের এক জাদুকরী সূত্র। আমরা সারাজীবন যা-ই করি না কেন, শেষ মুহূর্তের চিন্তা আমাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। কিন্তু এই স্মরণ এমনি এমনি হয় না, এর জন্য সারা জীবনের অভ্যাস প্রয়োজন।
মৃত্যুর সময় যখন ইন্দ্রিয়গুলো শিথিল হয়ে যায়, তখন কেবল অবচেতন মনের গভীর সংস্কারগুলোই জেগে ওঠে। তাই আমাদের উচিত এখন থেকেই কৃষ্ণচিন্তা করা যাতে অন্তিম সময়ে তা স্বাভাবিকভাবেই মনে আসে।
এটি আমাদের শেখায় যে মৃত্যুর পর কী হবে—তা আমাদের বর্তমান হাতের ওপর নির্ভর করছে। আমরা যদি আমাদের মনকে পবিত্র ও ঈশ্বরমুখী রাখি, তবে মৃত্যু আমাদের কাছে ভীতিকর নয় বরং পরমাত্মার সাথে মিলনের এক উৎসব হয়ে উঠবে।