যং যং বাপি স্মরন্ভাবং ত্যজত্যন্তে কলেবরম্ ।
তং তমেবৈতি কৌন্তেয় সদা তদ্ভাবভাবিতঃ ॥ ৮.৬ ॥
সরল ভাবার্থ:
হে কৌন্তেয়! মানুষ মৃত্যুকালে যে যে বিষয় বা ভাব স্মরণ করতে করতে দেহত্যাগ করে, সে সেই ভাব বা অবস্থাই প্রাপ্ত হয়। কারণ সে সারাজীবন সেই চিন্তাতেই নিমগ্ন ছিল।
১. মনস্তাত্ত্বিক নিয়ম: মৃত্যুর সময় আমাদের মন যে বিষয়ের সাথে সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে থাকে, পরজন্মে আমাদের গতি সেই দিকেই হয়। এটি প্রকৃতির এক অমোঘ নিয়ম।
২. তদ্ভাবভাবিতঃ: হুট করে কোনো কিছু মনে আসে না। আমরা সারাজীবন যা নিয়ে বেশি চিন্তা করি—টাকা, পরিবার বা কোনো বস্তু—মৃত্যুকালেও সেই ভাবটিই প্রবল হয়।
৩. জড় ভরত উপাখ্যানের ইঙ্গিত: আমাদের শাস্ত্রে রাজা ভরতের উদাহরণ দেওয়া হয়, যিনি মৃত্যুর সময় হরিণের কথা ভেবেছিলেন বলে তাঁকে হরিণ হয়ে জন্মাতে হয়েছিল। এই শ্লোকটি সেই সত্যকেই সমর্থন করে।
এই শ্লোকটি আমাদের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের দায়িত্ব মনে করিয়ে দেয়। আমরা যদি ভাবি যে সারাজীবন পাপ করব আর শেষ সময়ে ভগবানের নাম নেব—তা হয় না। কারণ আমাদের মন সেই বিষয়ের দিকেই যাবে যা নিয়ে আমরা সবচেয়ে বেশি ‘প্যাশনেট’।
আমাদের অবচেতন মন একটি ক্যাসেট প্লেয়ারের মতো, যা প্রতিনিয়ত আমাদের চিন্তাগুলো রেকর্ড করছে। মৃত্যুর সময় সেই রেকর্ডই বাজে। তাই আমাদের উচিত আমাদের চিন্তাকে উচ্চতর স্তরে নিয়ে যাওয়া।
এই শ্লোকটি পরজন্মের বিজ্ঞানের এক ভিত্তি। আমরাই আমাদের ভবিষ্যৎ তৈরি করি। এটি আমাদের শেখায় যে আমরা যা ভালোবাসি, আমরা শেষ পর্যন্ত তাই হয়ে যাই। সুতরাং ভালোবাসার পাত্র হিসেবে পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণকেই বেছে নেওয়া উচিত।