॥ অধ্যায় ৮, শ্লোক ৭ ॥

তস্মাৎসর্বেষু কালেষু মামনুস্মর যুধ্য চ ।
ময্যর্পিতমনোবুদ্ধির্মামেবৈষ্যস্যসংশয়ঃ ॥ ৮.৭ ॥

সরল ভাবার্থ:

অতএব তুমি সর্বক্ষণ আমাকে স্মরণ করো এবং যুদ্ধ করো। আমাতে মন ও বুদ্ধি অর্পণ করলে তুমি আমাকেই লাভ করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।

১. মামনুস্মর যুধ্য চ: এটি গীতার সবচেয়ে প্র্যাকটিক্যাল উপদেশ। কৃষ্ণ বলছেন না যে কাজ ছেড়ে দাও, তিনি বলছেন—আমাকে মনে রাখো এবং তোমার কাজ (যুদ্ধ) করো। অর্থাৎ স্মরণ ও কর্মের সমন্বয়।

২. মন-বুদ্ধি অর্পণ: ভক্তি কেবল আবেগের বিষয় নয়, বুদ্ধিরও বিষয়। যখন আমাদের চিন্তা এবং সিদ্ধান্ত কৃষ্ণের শিক্ষার ওপর ভিত্তি করে হবে, তখনই পূর্ণ আত্মসমর্পণ সম্ভব।

৩. কর্মযোগের চরম শিখর: নিজের দায়িত্ব পালন করাও এক প্রকারের পূজা, যদি তা ভগবানের স্মরণে করা হয়। অর্জুনের জন্য যুদ্ধই ছিল তাঁর তৎকালীন ধর্ম।

এই শ্লোকটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সব সমস্যার সমাধান দেয়। আমরা প্রায়ই বলি যে কাজ করতে গিয়ে ঈশ্বরকে ডাকার সময় পাই না। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন কাজের মাধ্যমেই আমাকে ডাকো। রান্নার সময়, অফিসের সময় বা পড়াশোনার সময় মন থাকুক ঈশ্বরে, আর হাত থাকুক কাজে।

অর্জুনকে যুদ্ধ করতে বলা মানে প্রতিটি মানুষকে তাঁর নিজ নিজ প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়তে বলা। পলায়ন করা ধর্ম নয়, বরং ঈশ্বরে সমর্পিত হয়ে পরিস্থিতির মোকাবেলা করাই হলো আসল বীরত্ব।

অসংশয় বা কোনো সন্দেহ ছাড়া কৃষ্ণ এখানে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। এটি এক পরম নিশ্চিন্তির জায়গা। যখন আমাদের সব চিন্তা কৃষ্ণের চরণে অর্পিত হয়, তখন সাফল্যের আনন্দ বা ব্যর্থতার দুঃখ আমাদের আর স্পর্শ করতে পারে না।