॥ অধ্যায় ৮, শ্লোক ৮ ॥

অভ্যাসযোগযুক্তেন চেতসা নান্যগামিনা ।
পরমং পুরুষং দিব্যং যাতি পার্থানুচিন্তয়ন্ ॥ ৮.৮ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে পার্থ! অভ্যাসের দ্বারা যোগযুক্ত এবং অন্য কোথাও ধাবিত না হওয়া একাগ্র চিত্তে যিনি সেই দিব্য পরম পুরুষকে চিন্তা করেন, তিনি তাঁকেই প্রাপ্ত হন।

১. অভ্যাসযোগ: মনকে একাগ্র করার জন্য নিয়মিত প্র্যাকটিস বা অভ্যাসের প্রয়োজন। মন স্বভাবতই চঞ্চল, তাই তাকে বারবার ফিরিয়ে এনে ভগবানের চরণে স্থাপন করতে হয়।

২. নান্যগামিনা বা অনন্য ভক্তি: মন যেন অন্য কোনো জাগতিক বাসনার দিকে ছুটে না যায়। এই একাগ্রতা বা ফোকাসই হলো সাফল্যের চাবিকাঠি।

৩. পরম পুরুষ ও দিব্য ধ্যান: ধ্যানের বিষয় হওয়া উচিত সেই জ্যোতির্ময় পরমেশ্বর। তাঁকে স্মরণ করতে করতে মানুষের চেতনা তাঁর মতোই দিব্য হয়ে ওঠে।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে মনের মেকানিজম নিয়ে কথা বলছেন। আমরা যা বারবার অভ্যাস করি, আমাদের মন সেদিকেই পারদর্শী হয়ে ওঠে। আমরা যদি প্রতিনিয়ত ভগবানের নাম বা রূপ ধ্যান করি, তবে একসময় তা আমাদের মজ্জাগত হয়ে যাবে।

এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিকতা কোনো জাদুকরী ঘটনা নয়, এটি একটি পদ্ধতিগত প্রচেষ্টা। আমাদের মনকে একটি ট্রেনিং দেওয়া প্রয়োজন। যেমন একটি বুনো ঘোড়াকে বশ করতে হয়, মনকেও তেমনি অভ্যাসের চাবুক দিয়ে বশ করতে হয়।

যখন মন একাগ্র হয়, তখন জগতের কোলাহল আর আমাদের বিচলিত করতে পারে না। আমরা সেই পরম পুরুষের দিব্য সান্নিধ্য অনুভব করি। এটিই হলো জ্যান্ত অবস্থায় মুক্তির স্বাদ পাওয়া।