কবিং পুরাণমনুশাসিতারমণোরণীয়াংসমনুস্মরেদ্যঃ ।
সর্বস্য ধাতারমচিন্ত্যরূপমাদিত্যবর্ণং তমসঃ পরস্তাৎ ॥ ৮.৯ ॥
সরল ভাবার্থ:
যিনি সেই সর্বজ্ঞ (কবি), অনাদি (পুরাণ), জগতের শাসক, অণু থেকে অণুতর, সকলের বিধাতা, অচিন্ত্য রূপধারী এবং অন্ধকারের ঊর্ধ্বে সূর্যের মতো জ্যোতির্ময় পরমেশ্বরকে স্মরণ করেন...
১. ভগবানের গুণাবলি: শ্রীকৃষ্ণ এখানে পরমাত্মার আটটি চমৎকার গুণ বর্ণনা করেছেন। তিনি সর্বজ্ঞ, পুরাতন, শাসক, সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতর, সবার আধার, মানব বুদ্ধির অগম্য এবং স্বয়ংপ্রকাশিত।
২. আদিত্যবর্ণ: সূর্যের মতো তেজস্বী। সূর্য যেমন অন্ধকার দূর করে আলো দেয়, ভগবান তেমনি আমাদের হৃদয়ের অজ্ঞানতার অন্ধকার দূর করেন।
৩. তমসঃ পরস্তাৎ: মায়া বা অজ্ঞানতার অন্ধকার তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। তিনি জগতের সব কলুষতার ঊর্ধ্বে চিরপবিত্র।
এই শ্লোকটি ধ্যানের জন্য একটি সম্পূর্ণ গাইড। আমরা যখন প্রার্থনা করি, তখন আমাদের মনে ভগবানের এই স্বরূপটি থাকা উচিত। তিনি কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি মহাজাগতিক এক মহান সত্তা।
‘অণোরণীয়াংসম্’ বা অণুর চেয়েও ছোট—এর অর্থ হলো তিনি প্রতিটি পরমাণুর ভেতরে আছেন। আবার ‘সর্বস্য ধাতারম্’ মানে হলো তিনি পুরো ব্রহ্মাণ্ডকে ধরে রেখেছেন। এই বৈপরীত্যই তাঁর মহিমা প্রমাণ করে।
তাঁকে ‘অচিন্ত্যরূপ’ বলা হয়েছে কারণ আমাদের ক্ষুদ্র মস্তিষ্ক দিয়ে তাঁকে পুরোপুরি বোঝা অসম্ভব। কিন্তু সূর্যের আলোর মতো তাঁর কৃপা আমরা সবাই পেতে পারি। এই শ্লোকটি পাঠ করলে ভগবানের মহানুভবতা সম্পর্কে আমাদের ধারণা স্পষ্ট হয় এবং ভক্তি বাড়ে।