॥ অধ্যায় ৮, শ্লোক ১০ ॥

প্রয়াণকালে মনসাঽচলেন ভক্ত্যা যুক্তো যোগবলেন চৈব ।
ভ্রুবোর্মধ্যে প্রাণমাবেশ্য সম্যক্ স তং পরং পুরুষমুপৈতি দিব্যম্ ॥ ৮.১০ ॥

সরল ভাবার্থ:

মৃত্যুকালে স্থির মনে ভক্তি ও যোগবলের সাহায্যে ভ্রুদ্বয়ের মাঝখানে প্রাণবায়ুকে স্থাপন করে যিনি পরমেশ্বরকে স্মরণ করেন, তিনি সেই দিব্য পরম পুরুষকেই লাভ করেন।

১. ভ্রুদ্বয়ের মাঝখানে প্রাণ স্থাপন: এটি একটি উচ্চাঙ্গের যোগক্রিয়া। দুই ভ্রুর মাঝখানে (আজ্ঞা চক্র) মনকে স্থির করে প্রাণবায়ুকে উপরে তোলা হয়। এটি গভীর একাগ্রতার লক্ষণ।

২. যোগবল ও ভক্তি: কেবল মেকানিকাল যোগ নয়, এর সাথে হৃদয়ের ‘ভক্তি’ থাকতে হবে। যোগবল শরীরকে স্থির রাখে আর ভক্তি মনকে কৃষ্ণের সাথে জুড়ে দেয়।

৩. পরম গতি লাভ: এই পদ্ধতিতে যিনি দেহত্যাগ করেন, তাঁর আত্মা সরাসরি মহাজাগতিক পরম পুরুষের সাথে একীভূত হয়। এটিই হলো যোগীদের কাঙ্ক্ষিত শেষ গন্তব্য।

এই শ্লোকটি অষ্টম অধ্যায়ের প্রথমাংশের চূড়ান্ত কথা। এটি আমাদের শেখায় যে মৃত্যুর সময় মনকে কীভাবে ট্রেনিং দিতে হবে। এটি খুব কঠিন একটি প্রক্রিয়া যা হঠাৎ করে হয় না। সারা জীবন প্রাণায়াম ও ধ্যানের অভ্যাসের মাধ্যমেই এই ‘যোগবল’ অর্জন করা সম্ভব।

তবে সাধারণ ভক্তদের জন্য ঘাবড়ানোর কিছু নেই। শ্রীকৃষ্ণ পরের শ্লোকগুলোতে ভক্তির সহজ পথও বলে দেবেন। কিন্তু যোগীদের জন্য এটি একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি যার মাধ্যমে তাঁরা মৃত্যুকে জয় করেন।

মৃত্যুর সময় সাধারণত মন বিক্ষিপ্ত হয়ে যায়, কিন্তু ‘অচল’ মনের কথা এখানে বলা হয়েছে। এর মানে হলো আমাদের চেতনার ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ। এই নিয়ন্ত্রণ অর্জন করাই হলো মানুষের জীবনের আসল লড়াই। এই শ্লোকটি আমাদের সেই অসীম সম্ভাবনার কথা মনে করিয়ে দেয় যা আমাদের প্রত্যেকের ভেতরে সুপ্ত আছে।