॥ অধ্যায় ৮, শ্লোক ১১ ॥

যদক্ষরং বেদবিদো বদন্তি বিশন্তি যদ্যতয়ো বীতরাগাঃ ।
যদিচ্ছন্তো ব্রহ্মচর্যং চরন্তি তৎতে পদং সংগ্রহেণ প্রবক্ষ্যে ॥ ৮.১১ ॥

সরল ভাবার্থ:

বেদজ্ঞ পণ্ডিতেরা যাকে 'অক্ষর' বলেন, আসক্তিশূন্য যতিগণ যাতে প্রবেশ করেন এবং যা লাভের ইচ্ছায় ব্রহ্মচর্য পালন করা হয়—আমি সংক্ষেপে তোমাকে সেই পরম পদের কথা বলব।

১. বেদবিদ ও অক্ষর তত্ত্ব: যারা বেদের প্রকৃত অর্থ জানেন, তাঁরা ঈশ্বরকে 'অক্ষর' বা অবিনাশী হিসেবে বর্ণনা করেন। জগত নশ্বর, কিন্তু এর ভেতরে যা অবিনাশী, তাই ব্রহ্ম।

২. যতি ও বৈরাগ্য: যারা নিজেদের ইন্দ্রিয় জয় করেছেন (যতি) এবং জাগতিক আসক্তি থেকে মুক্ত (বীতরাগ), তাঁরাই এই পরম পদে প্রবেশের যোগ্য।

৩. ব্রহ্মচর্য ও সংকল্প: ব্রহ্মচর্য কেবল শারীরিক সংযম নয়, এটি হলো মনকে ব্রহ্মের চিন্তায় নিবিষ্ট রাখা। এই ত্যাগের মাধ্যমেই উচ্চতর জ্ঞান লাভ সম্ভব হয়।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে অর্জুনকে সেই পরম লক্ষ্যের কথা বলছেন যা সমস্ত ঋষি-মুনিদের সাধনার মূল বিষয়। 'পদং' মানে হলো গন্তব্য। এই গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে দুটি জিনিসের প্রয়োজন—আসক্তি ত্যাগ এবং অখণ্ড ব্রহ্মচর্য। আমাদের মন যখন বিষয়ের দিকে দৌড়ায়, তখন সে পরম পদ থেকে বিচ্যুত হয়।

বেদবিদরা কেন একে 'অক্ষর' বলেন? কারণ ভাষার মাধ্যমে একে পুরোপুরি প্রকাশ করা যায় না, কেবল অনুভবের মাধ্যমে একে জানা যায়। কৃষ্ণ বলছেন তিনি সংক্ষেপে (সংগ্রহেণ) এই রহস্য বলবেন কারণ অর্জুন এখন যুদ্ধের ময়দানে আছেন, দীর্ঘ আলোচনার সময় নেই।

এটি আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিক পথটি অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। হুট করে সত্য পাওয়া যায় না, এর জন্য জীবনকে একটি নির্দিষ্ট ছাঁচে (যেমন ব্রহ্মচর্য ও সংযম) গড়তে হয়। এটি কেবল সন্ন্যাসীদের জন্য নয়, এটি প্রতিটি মানুষের জন্য একটি মানসিক দিকনির্দেশনা যা তাকে ভোগের ঊর্ধ্বে ত্যাগের আনন্দ বুঝতে শেখায়।