॥ অধ্যায় ৮, শ্লোক ১২ ॥

সর্বদ্বারাণি সংযম্য মনো হৃদি নিরুধ্য চ ।
মৃধ্ন্যধায়াত্মনঃ প্রাণমাস্থিতো যোগধারণাম্ ॥ ৮.১২ ॥

সরল ভাবার্থ:

সমস্ত ইন্দ্রিয়-দ্বার রুদ্ধ করে, মনকে হৃদয়ে নিরুদ্ধ করে এবং প্রাণবায়ুকে মস্তকে (সহস্রারে) স্থাপন করে যোগধারণায় স্থিত হতে হয়।

১. ইন্দ্রিয় সংযম (সর্বদ্বারাণি সংযম্য): শরীরের ৯টি দ্বার বা ছিদ্র (চোখ, কান, নাক ইত্যাদি) দিয়ে আমাদের শক্তি বাইরে বেরিয়ে যায়। যোগের মাধ্যমে এই বহির্মুখী শক্তিকে অন্তর্মুখী করতে হয়।

২. মনকে হৃদয়ে স্থির করা: মনকে বাইরের চিন্তা থেকে সরিয়ে হৃদয়ে অবস্থিত পরমাত্মার ওপর কেন্দ্রীভূত করাই হলো প্রকৃত নিরোধ।

৩. প্রাণবায়ুর ঊর্ধ্বারোহণ: যোগবলে প্রাণকে নাভি থেকে হৃদয়ে এবং হৃদয় থেকে মস্তকের ব্রহ্মরন্ধ্রে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া এখানে বর্ণিত হয়েছে।

এটি একটি উচ্চস্তরের যোগক্রিয়ার বিবরণ। শ্রীকৃষ্ণ এখানে দেখাচ্ছেন কীভাবে একজন যোগী তাঁর মৃত্যু এবং গন্তব্যকে নিয়ন্ত্রণ করেন। আমরা সাধারণত আমাদের চোখ-কান দিয়ে জগতকে ভোগ করি, কিন্তু যোগী সেই শক্তিকে ভেতরে ফিরিয়ে আনেন।

মনকে হৃদয়ে নিরুদ্ধ করা মানে হলো অনুভূতির কেন্দ্রে পৌঁছানো। আমাদের সব বিক্ষিপ্ত চিন্তা যখন এক বিন্দুতে জমা হয়, তখনই অলৌকিক শক্তির উদয় হয়। মস্তকে প্রাণ ধারণ করা হলো সমাধি অবস্থার প্রস্তুতি।

এটি আমাদের শেখায় যে আমাদের শরীর কেবল একটি যন্ত্র নয়, এটি এক বিশাল শক্তির আধার। আমরা যদি আমাদের শক্তির অপচয় রোধ করতে পারি, তবে আমরা মৃত্যুকেও মহিমান্বিত করতে পারি। এই শ্লোকটি আমাদের মনোযোগ বা কনসেন্ট্রেশনের চরম উচ্চতা শেখায় যা জীবনের যেকোনো ক্ষেত্রে সফল হতে সাহায্য করে।