॥ অধ্যায় ৮, শ্লোক ১৩ ॥

ওমিত্যেকাক্ষরং ব্রহ্ম ব্যাহরন্মামনুস্মরন্ ।
যঃ প্রয়াতি ত্যজন্দেহং স যাতি পরমাং গতিম্ ॥ ৮.১৩ ॥

সরল ভাবার্থ:

যিনি 'ওঁ'—এই একাক্ষর ব্রহ্ম উচ্চারণ করতে করতে এবং আমাকে স্মরণ করতে করতে দেহত্যাগ করেন, তিনি পরম গতি লাভ করেন।

১. ওঁকার ধ্বনি: 'ওঁ' হলো সমস্ত শব্দের মূল এবং পরমাত্মার বাচকরূপ। এটি জগতের আদি কম্পন বা সাউন্ড এনার্জি।

২. উচ্চারণ ও স্মরণ: কেবল মুখে ওঁকার বলা নয়, মনের ভেতরে শ্রীকৃষ্ণের স্বরূপ স্মরণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। শব্দ ও অর্থের এই মিলনেই সাধনা পূর্ণ হয়।

৩. পরমাং গতি: এর ফল হলো জন্ম-মৃত্যুর চক্র থেকে চিরমুক্তি। একেই নির্বাণ বা মোক্ষ বলা হয়।

শ্রীকৃষ্ণ এখানে ওঙ্কার সাধনার রহস্য উন্মোচন করলেন। 'ওঁ' শব্দটি অ-উ-ম এই তিনটি অক্ষরের সমন্বয় যা সৃষ্টি, স্থিতি ও প্রলয়কে নির্দেশ করে। এটি ব্রহ্মের ধ্বনিময় রূপ। মৃত্যুর সময় যখন বাকশক্তি হারিয়ে যায়, তখন অন্তরের এই ওঁকার ধ্বনিই আত্মাকে পথ দেখায়।

অনেকে মনে করেন মৃত্যুকালে 'ওঁ' বলা খুব সহজ। কিন্তু যন্ত্রণার সময় মনকে এক বিন্দুতে আনা এবং পবিত্র শব্দ উচ্চারণ করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। এর জন্য বছরের পর বছর অভ্যাসের প্রয়োজন। কৃষ্ণ বলছেন, যিনি দেহত্যাগের সময় এই অবস্থায় থাকেন, তিনি সরাসরি পরমাত্মায় বিলীন হন।

এই শ্লোকটি আমাদের শব্দের শক্তির কথা মনে করিয়ে দেয়। আমাদের কথা এবং চিন্তা আমাদের ভবিষ্যৎ তৈরি করে। 'ওঁ' উচ্চারণ মনকে শান্ত করে এবং উচ্চতর চেতনার সাথে যুক্ত করে। এটি কেবল একটি মন্ত্র নয়, এটি ঈশ্বরের সাথে যুক্ত হওয়ার একটি টেলিফোন লাইনের মতো।