॥ অধ্যায় ৮, শ্লোক ১৪ ॥

অনন্যচেতাঃ সততং যো মাং স্মরতি নিত্যশঃ ।
তস্যাহং সুলভঃ পার্থ নিত্যযুক্তস্য যোগিনঃ ॥ ৮.১৪ ॥

সরল ভাবার্থ:

হে পার্থ! যিনি অনন্যচিত্তে সর্বদা আমাকে স্মরণ করেন, সেই নিত্যযুক্ত যোগীর কাছে আমি অত্যন্ত সুলভ (সহজেই লভ্য)।

১. অনন্যচেতাঃ বা ফোকাসড মাইন্ড: যার মন অন্য কোনো জাগতিক বিষয়ে বিভক্ত নয়। ভক্তির এই একনিষ্ঠতাই ঈশ্বরকে পাওয়ার মূল চাবিকাঠি।

২. সততং ও নিত্যশঃ: সপ্তাহে একদিন বা দিনে দশ মিনিট নয়, বরং প্রতিটি নিঃশ্বাসে ভগবানকে স্মরণ করা। এটি হলো অভ্যাসের চরম সীমা।

৩. সুলভ পরমেশ্বর: অনেকে মনে করেন ভগবানকে পাওয়া খুব কঠিন। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন, যারা আমাকে একান্তে ভালোবাসে, তাদের জন্য আমি অত্যন্ত সহজ।

আগের শ্লোকগুলোতে জটিল যোগক্রিয়ার কথা বলার পর, কৃষ্ণ এখানে ভক্তির সহজ রাস্তাটি দেখালেন। যোগী যে ফল পান অনেক কষ্টে, ভক্ত সেই ফল পান কেবল ভালোবাসার জোরে। 'নিত্যযুক্ত' মানে হলো ২৪ ঘণ্টা কানেক্টেড থাকা।

ঈশ্বরকে পাওয়ার জন্য বনে যাওয়ার দরকার নেই, দরকার শুধু মনের অভিমুখ পরিবর্তন করা। আমরা যদি আমাদের প্রিয়জনের কথা সারাদিন ভাবতে পারি, তবে ঈশ্বরের কথা কেন পারব না? কৃষ্ণ বলছেন, যে আমাকে সবসময় মনে রাখে, আমি তাঁর হৃদয়ে সবসময় জেগে থাকি।

এই শ্লোকটি আমাদের আশ্বস্ত করে যে আধ্যাত্মিকতা কোনো দুর্লভ বস্তু নয়। এটি আমাদের আন্তরিকতার ওপর নির্ভর করে। আমরা যদি আমাদের কাজ করতে করতেও মনে মনে তাঁকে ডাকি, তবে তিনিও আমাদের ডাক শোনেন। এটি এক পরম আশার বাণী।