মামুপেত্য পুনর্জন্ম দুঃখালয়মশাশ্বতম্ ।
নাপ্নুবন্তি মহাত্মানঃ সংসিদ্ধিং পরমাং গতঃ ॥ ৮.১৫ ॥
সরল ভাবার্থ:
আমাকে লাভ করার পর সেই মহাত্মাগণ আর এই দুঃখের আলয় এবং ক্ষণস্থায়ী পুনর্জন্ম প্রাপ্ত হন না, কারণ তাঁরা পরম সিদ্ধি লাভ করেছেন।
১. দুঃখালয়মশাশ্বতম্: এই জগতকে শ্রীকৃষ্ণ 'দুঃখের ঘর' এবং 'অস্থায়ী' বলেছেন। এখানে সুখ আছে কিন্তু তা ক্ষণস্থায়ী এবং শেষ পর্যন্ত দুঃখেই পরিণত হয়।
২. পুনর্জন্ম থেকে মুক্তি: বারবার জন্মগ্রহণ করা এবং বার্ধক্য-মৃত্যুর যন্ত্রণা ভোগ করা থেকে চিরতরে নিষ্কৃতি পাওয়াই হলো এই পথের সাফল্য।
৩. মহাত্মা ও পরম সিদ্ধি: যারা নিজেদের আমিত্ব বিসর্জন দিয়ে ঈশ্বরে লীন হয়েছেন, তাঁরাই মহাত্মা। তাঁদের প্রাপ্তিই হলো জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন।
এই শ্লোকটি আমাদের জীবনের রূঢ় সত্যকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়। আমরা যতই জগতকে সাজাই না কেন, এটি শেষ পর্যন্ত দুঃখেরই জায়গা। অসুস্থতা, প্রিয়জনের বিয়োগ এবং অপ্রাপ্তি এখানে নিত্যসঙ্গী। কৃষ্ণ বলছেন, এই চক্র থেকে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হলো আমার কাছে আসা।
মুক্তির অর্থ এই নয় যে পৃথিবী খারাপ, বরং এর অর্থ হলো আমরা যেন উচ্চতর আনন্দের স্বাদ পাই। যেমন গ্র্যাজুয়েশন করার পর কেউ আর প্রাইমারি স্কুলে ফিরতে চায় না, তেমনি কৃষ্ণকে পাওয়ার পর এই ক্ষুদ্র জগতের মায়া আর কাউকে টানতে পারে না।
এটি আমাদের জীবনের প্রায়োরিটি বা অগ্রাধিকার ঠিক করতে সাহায্য করে। আমরা কি কেবল একটি দুঃখের ঘরে সুন্দর আসবাবপত্র সাজাতে ব্যস্ত থাকব, নাকি সেই প্রাসাদ খুঁজব যেখানে কোনো দুঃখ নেই? এই বিচারবুদ্ধিই মানুষকে মহাত্মা হতে সাহায্য করে।