আব্রহ্মভুবনাল্লোকাঃ পুনরাবর্তিনোঽর্জুন ।
মামুপেত্য তু কৌন্তেয় পুনর্জন্ম ন বিদ্যতে ॥ ৮.১৬ ॥
সরল ভাবার্থ:
হে অর্জুন! ব্রহ্মলোক থেকে শুরু করে এই জগতের সমস্ত লোকই পুনরাবর্তনশীল (অর্থাৎ সেখান থেকে ফিরে আসতে হয়)। কিন্তু হে কৌন্তেয়! আমাকে লাভ করলে আর পুনর্জন্ম হয় না।
১. ব্রহ্মলোক পর্যন্ত সীমাবদ্ধতা: স্বর্গের সবচেয়ে উচ্চ স্তর হলো ব্রহ্মলোক। পুণ্যবলে মানুষ সেখানে যেতে পারে, কিন্তু পুণ্য শেষ হলে আবার পৃথিবীতে ফিরে আসতে হয়।
২. পুনরাবর্তন বনাম মুক্তি: জগতের সব গন্তব্যই একটি বৃত্তের মতো। কেবল কৃষ্ণের ধামই হলো সেই বিন্দু যেখান থেকে আর কোনো পতন নেই।
৩. স্থায়ী শান্তির ঠিকানা: শ্রীকৃষ্ণ এখানে নিজেকে পরম আশ্রয় হিসেবে ঘোষণা করেছেন। তিনি বোঝাচ্ছেন যে দেবতাদের পূজা করে যে ফল পাওয়া যায় তা লিমিটেড।
এটি বৈশ্বিক মানচিত্রের এক আধ্যাত্মিক বর্ণনা। আমরা যাকে স্বর্গ বলি বা খুব বড় সুখ মনে করি, তাও আসলে মায়ার অধীন এবং সময় দ্বারা সীমাবদ্ধ। ব্রহ্মলোকের আয়ু অনেক বড় হলেও তা অনন্ত নয়। কৃষ্ণ আমাদের স্বপ্নকে বড় করতে বলছেন।
কেন আমরা ফিরে আসি? কারণ আমাদের ভেতরে বাসনা থাকে। বাসনা যতক্ষণ আছে, ততক্ষণ পুনর্জন্ম আছে। কিন্তু কৃষ্ণের প্রেমে মন যখন পূর্ণ হয়, তখন সব বাসনা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ফলে আত্মা মুক্ত হয়ে কৃষ্ণের সাথে একাকার হয়ে যায়।
এই শ্লোকটি আমাদের সতর্ক করে যে আমরা যেন ছোটখাটো সফলতায় তুষ্ট না হই। জীবনের লক্ষ্য হওয়া উচিত এমন কিছু পাওয়া যা কখনো শেষ হবে না। শ্রীকৃষ্ণের এই বাণী আমাদের অসীম আকাঙ্ক্ষার তৃপ্তি ঘটায় এবং প্রকৃত স্বাধীনতার পথ দেখায়।