॥ অধ্যায় ৮, শ্লোক ১৭ ॥

সহস্রযুগপর্যন্তমহর্যদ্ব্রহ্মণো বিদুঃ ।
রাত্রিং যুগসহস্রান্তাং তেঽহোরাত্রবিদো জনাঃ ॥ ৮.১৭ ॥

সরল ভাবার্থ:

যাঁরা জানেন যে ব্রহ্মার একদিন এক হাজার চতুর্যুগের সমান এবং তাঁর রাত্রিও এক হাজার চতুর্যুগের সমান, তাঁরাই দিন ও রাত্রির প্রকৃত রহস্য জানেন।

১. মহাজাগতিক সময় (Cosmic Time): মানুষের সময় আর ব্রহ্মার সময় এক নয়। ব্রহ্মার ১২ ঘণ্টা মানে ৪৩২ কোটি বছর। এটি আধ্যাত্মিক বিজ্ঞানের এক বিশাল ক্যালকুলেশন।

২. অহোরাত্রবিদ: যারা এই বিশাল সময়ের হিসাব জানেন, তারা বুঝতে পারেন যে আমাদের ১০০ বছরের জীবন কতটা নগণ্য। এটি মানুষের অহংকার চূর্ণ করে দেয়।

৩. পরিবর্তনশীলতা: ব্রহ্মার দিন ও রাত হওয়া মানে জগতের সৃষ্টি ও ধ্বংসের এক অমোঘ চক্র। কোনো কিছুই চিরকাল স্থির থাকে না।

আধুনিক বিজ্ঞানের 'মাল্টিভার্স' বা 'বিগ ব্যাং' থিওরির অনেক আগে গীতা এই বিশাল সময়ের ধারণা দিয়েছিল। ১ চতুর্যুগ (সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, কলি) = ৪৩ লক্ষ ২০ হাজার বছর। এমন ১০০০ চতুর্যুগ হলো ব্রহ্মার এক সকাল। এটি আমাদের কল্পনারও অতীত।

এই বিশাল সময়ের কথা বলে শ্রীকৃষ্ণ আমাদের বৈরাগ্য শেখাচ্ছেন। আমরা সামান্য এক টুকরো জমি বা সম্মানের জন্য লড়াই করি যা ব্রহ্মার সময়ের এক পলকেরও সমান নয়। যখন আমরা এই স্কেল দিয়ে জগতকে দেখি, তখন আমাদের দুশ্চিন্তা অনেক কমে যায়।

এটি আমাদের ধৈর্য ধরতে শেখায়। জগত এক বিশাল ছন্দে চলছে। আমাদের জন্ম ও মৃত্যু এই মহাজাগতিক নাটকের একটি অতি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র। এই সত্যটি জানলে মানুষ জাগতিক তুচ্ছতা ছেড়ে পরম সত্যের দিকে মনোযোগ দিতে পারে।