অব্যক্তাদ্ব্যক্তয়ঃ সর্বাঃ প্রভবন্ত্যহরাগমে ।
রাত্র্যাগমে প্রলীয়ন্তে তত্রৈবাব্যক্তসংজ্ঞকে ॥ ৮.১৮ ॥
সরল ভাবার্থ:
ব্রহ্মার দিনের শুরুতে সমস্ত দৃশ্যমান জগত অব্যক্ত থেকে ব্যক্ত হয় এবং রাত্রি আসার সাথে সাথে আবার সেই অব্যক্তেই বিলীন হয়ে যায়।
১. ব্যক্ত ও অব্যক্ত: অব্যক্ত হলো সিড বা বীজ অবস্থা। দিনের শুরুতে ঈশ্বর জগতকে প্রকাশ করেন, আর রাতে সব গুটিয়ে নেন। এটি সৃষ্টির এক শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া।
২. প্রলয়: রাত্রি আসার অর্থ হলো ধ্বংস নয়, বরং বিশ্রামের জন্য মূল উৎসে ফিরে যাওয়া। যেমন ঘুমন্ত অবস্থায় আমাদের সব চিন্তা অব্যক্ত থাকে, আবার সকালে জেগে উঠলে সব প্রকাশ পায়।
৩. অপরিহার্য চক্র: এই চক্র কেউ থামাতে পারে না। এটি প্রকৃতির নিয়ম। আমরা সবাই এই মহাজাগতিক জোয়ার-ভাটায় ভাসছি।
এই শ্লোকটি সৃষ্টির বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক ব্যাখ্যা দেয়। শক্তি কখনো ধ্বংস হয় না, কেবল রূপান্তর ঘটে। ব্রহ্মার রাতে আমরা সবাই এক গভীর সুপ্তিতে থাকি। আবার যখন ব্রহ্মার সকাল হয়, তখন আমাদের সংস্কার অনুযায়ী আমরা আবার শরীর নিয়ে জন্মাই।
এটি আমাদের শেখায় যে মৃত্যু মানে বিলুপ্তি নয়, এটি কেবল একটি বিরতি। আমাদের বর্তমান জীবন আগের কোনো অব্যক্ত অবস্থার প্রকাশ। তাই আমাদের প্রতিটি কাজ বা 'কর্ম' বীজরুপে সঞ্চিত থাকে এবং সময়মতো তা আবার ফল হিসেবে সামনে আসে।
এই বিশাল প্রক্রিয়ার সামনে মানুষের কতটুকু নিয়ন্ত্রণ আছে? কৃষ্ণ বুঝিয়ে দিচ্ছেন যে প্রকৃতির এই নিয়মের কাছে আমরা অত্যন্ত ক্ষুদ্র। তাই অহংকার ত্যাগ করে সেই মূল চালিকাশক্তির শরণ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। এটি জীবনের গভীর প্রবাহকে মেনে নেওয়ার এক শিক্ষা।