ভূতগ্রামঃ স এবায়ং ভূত্বা ভূত্বা প্রলীয়তে ।
রাত্র্যাগমেঽবশঃ পার্থ প্রভবত্যহরাগমে ॥ ৮.১৯ ॥
সরল ভাবার্থ:
হে পার্থ! এই সমস্ত জীব সম্প্রদায় বারবার জন্মগ্রহণ করে এবং প্রকৃতির নিয়মে অবশ হয়ে রাত্রি আগমনে লীন হয় এবং দিনের শুরুতে আবার জন্ম নেয়।
১. ভূত্বা ভূত্বা বা বারবার জন্ম: আমরা অনেকবার জন্মেছি এবং অনেকবার মারা গিয়েছি। এই শৃঙ্খলটি অত্যন্ত দীর্ঘ।
২. অবশ বা পরতন্ত্র: মানুষ নিজেকে খুব স্বাধীন মনে করলেও সে আসলে প্রকৃতির গুণের দ্বারা 'অবশ' বা বাধ্য। মৃত্যুর সময় আমরা চাইলেও এই দেহকে ধরে রাখতে পারি না।
৩. প্রকৃতির মেকানিজম: জগত কোনো বিশৃঙ্খল জায়গা নয়, এটি একটি নিখুঁত সফটওয়্যারের মতো চলছে যেখানে জন্ম ও মৃত্যু অটোমেটিক প্রসেস।
শ্রীকৃষ্ণ এখানে করুণার সাথে বলছেন যে জীবরা এই চক্রে 'অবশ' হয়ে ঘুরছে। এটি একটি জেলখানার মতো যেখানে বন্দীরা বারবার এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে যায়। মানুষ মনে করে সে অনেক উন্নতি করছে, কিন্তু সে যদি এই জন্ম-মৃত্যুর চক্রটি না ভাঙতে পারে, তবে সে আসলে সেই প্রাচীন চক্রেই আটকে আছে।
অর্জুনকে 'পার্থ' বলে সম্বোধন করে কৃষ্ণ তাঁকে যুদ্ধের ময়দানে সাহস জোগাচ্ছেন। তিনি বোঝাচ্ছেন যে কোনো মানুষই মারা যায় না, কেবল তাঁর বহিঃপ্রকাশটুকু লীন হয়। তাই শোক করা বৃথা।
এটি আমাদের জীবনের নশ্বরতা এবং বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সচেতন করে। যদি আমরা সত্যিই স্বাধীন হতে চাই, তবে আমাদের এই সিস্টেমের বাইরে যেতে হবে। আর সেই বাইরে যাওয়ার দরজাই হলো শ্রীকৃষ্ণের ভক্তি। এই শ্লোকটি আমাদের মোক্ষ বা মুক্তির প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করায়।