॥ অধ্যায় ৮, শ্লোক ২০ ॥

পরস্তস্মাত্তু ভাবোঽন্যোঽব্যক্তোঽব্যক্তাৎসনাতনঃ ।
যঃ স সর্বেষু ভূতেষু নশ্যৎসু না বিনশ্যতি ॥ ৮.২০ ॥

সরল ভাবার্থ:

কিন্তু সেই ব্যক্ত ও অব্যক্ত প্রকৃতির ঊর্ধ্বে আরও একটি নিত্য অব্যক্ত ভাব আছে, যা সমস্ত প্রাণী ধ্বংস হলেও কখনো বিনাশ প্রাপ্ত হয় না।

১. সনাতন অব্যক্ত: ব্রহ্মার প্রলয়েও যা ধ্বংস হয় না, তাই হলো পরমাত্মা বা কৃষ্ণের ধাম। এটি প্রকৃতির অতীত এক চিন্ময় জগত।

২. নশ্যৎসু না বিনশ্যতি: জগত ভাঙাগড়ার খেলা খেললেও এই পরম সত্য অটল ও স্থির থাকে। এটিই হলো আমাদের আসল বাড়ি।

৩. দুই প্রকার অব্যক্ত: একটি হলো প্রকৃতির অব্যক্ত (যা পরে আবার সৃষ্টি হয়) আর অন্যটি হলো ঈশ্বরের অব্যক্ত (যা সবসময়ই থাকে)। দ্বিতীয়টিই আমাদের লক্ষ্য।

এই শ্লোকটি আমাদের পরম আশার আলো দেখায়। যখন আমরা শুনি যে সবকিছু একদিন ধ্বংস হয়ে যাবে, তখন আমাদের মনে ভয় হতে পারে। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন যে ধ্বংসের ওপারেও একটি জগত আছে। সেটি হলো গোলক বৃন্দাবন বা ব্রহ্মপদ।

আমাদের আত্মা সেই অবিনাশী জগতেরই অংশ। কিন্তু বর্তমানে আমরা এই বিনাশশীল জগতের সাথে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেছি বলে আমরা মৃত্যুর ভয় পাই। যখন আমরা বুঝতে পারি যে আমরা সেই সনাতন সত্যের অংশ, তখন মৃত্যু আমাদের কাছে কেবল একটি পোশাক বদলের মতো হয়ে দাঁড়ায়।

এটি আধ্যাত্মিক সাধনার চূড়ান্ত গন্তব্য। ঈশ্বর আমাদের এমন এক আশ্রয়ের কথা বলছেন যেখানে কোনো ভয় নেই, কোনো পরিবর্তন নেই, কেবল আছে শাশ্বত আনন্দ। এই শ্লোকটি আমাদের দৃষ্টিকে জড় জগত থেকে সরিয়ে পরমাত্মার সেই উজ্জ্বল জ্যোতির্ময় ধামের দিকে নিয়ে যায়।