অব্যক্তোঽক্ষর ইত্যুক্তস্তমাহুঃ পরমাং গতিম্ ।
যং প্রাপ্য না নিবর্তন্তে তদ্ধাম পরমং মম ॥ ৮.২১ ॥
সরল ভাবার্থ:
যাঁকে 'অব্যক্ত' ও 'অক্ষর' বলা হয়, তাঁকেই পরম গতি বলে অভিহিত করা হয়। যা প্রাপ্ত হলে মানুষ আর এই সংসারে ফিরে আসে না, সেটিই হলো আমার পরম ধাম।
১. অক্ষর ও পরম গতি: আগের শ্লোকে যে সনাতন অব্যক্তের কথা বলা হয়েছিল, কৃষ্ণ এখানে তাকেই 'অক্ষর' বা অবিনাশী বলছেন। এটিই আত্মার চূড়ান্ত গন্তব্য বা ডেস্টিনেশন।
২. অনাগমন বা মুক্তি: এই ধাম লাভ করলে জীবের আর পুনর্জন্ম হয় না। সে জন্ম-মৃত্যুর যন্ত্রণাদায়ক চক্র থেকে চিরতরে মুক্তি পায়।
৩. তদ্ধাম পরমং মম: শ্রীকৃষ্ণ স্পষ্ট করে বলছেন যে এই দিব্য জগতটি তাঁর নিজের। এটি কোনো কল্পনা নয়, এটি একটি বাস্তব চিন্ময় জগত যেখানে কেবল আনন্দ ও অমৃত বিরাজ করে।
এই শ্লোকটি আমাদের জীবনের পরম লক্ষ্যের দিশা দেয়। আমরা পৃথিবীতে বাড়ি-গাড়ি বা সুখ খুঁজি, কিন্তু সেগুলো সবই নশ্বর। কৃষ্ণ আমাদের এক স্থায়ী বাড়ির ঠিকানা দিচ্ছেন। এই পরম ধাম হলো এমন এক অবস্থা যেখানে মায়ার অন্ধকার পৌঁছাতে পারে না।
'যং প্রাপ্য না নিবর্তন্তে'—এটিই হলো সনাতন ধর্মের মূল মোক্ষ দর্শন। একবার যদি আমরা সেই দিব্য চেতনার স্বাদ পাই, তবে জগতের তুচ্ছ আনন্দ আমাদের আর আকর্ষণ করবে না। যেমন কেউ অমৃত পানের পর সাধারণ জল আর পছন্দ করে না।
এটি আমাদের শেখায় যে জীবন কেবল এই পৃথিবী পর্যন্ত সীমাবদ্ধ নয়। আমাদের আত্মার আদি বাড়ি হলো সেই পরমাত্মার কোলে। সেই ধামে পৌঁছানোই হলো মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ সফলতা। এটি জানলে মৃত্যু আর ভয়ংকর মনে হয় না, বরং পরম পিতার কাছে ফেরার এক উৎসব মনে হয়।