পুরুষঃ স পরঃ পার্থ ভক্ত্যা লভ্যত্ত্বনন্যয়া ।
যস্যান্তঃস্থানি ভূতানি যেন সর্বমিদং ততমম্ ॥ ৮.২২ ॥
সরল ভাবার্থ:
হে পার্থ! যাঁর ভেতরে সমস্ত প্রাণী অবস্থিত এবং যাঁর দ্বারা এই সমগ্র জগত পরিব্যাপ্ত, সেই পরম পুরুষকে কেবল অনন্য ভক্তির মাধ্যমেই লাভ করা যায়।
১. পরম পুরুষের সর্বব্যাপ্ততা: ঈশ্বর জগতের বাইরে নন। তিনি জগতের ভেতরে ও বাইরে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন। প্রতিটি বালুকণা থেকে শুরু করে বিশাল নক্ষত্র—সবই তাঁর শরীরে অবস্থিত।
২. অনন্য ভক্তি: কৃষ্ণকে পাওয়ার একমাত্র চাবিকাঠি হলো 'অনন্য ভক্তি'। অর্থাৎ এমন ভালোবাসা যেখানে দ্বিতীয় কোনো আকাঙ্ক্ষা নেই। কেবল ভগবানকে পাওয়ার ইচ্ছাই হলো আসল যোগ্যতা।
৩. যেন সর্বমিদং ততমম্: কাপড় যেমন সুতো দিয়ে বোনা থাকে, এই জগত তেমনি ঈশ্বর দিয়ে বোনা। তাঁকে বাদ দিয়ে জগতের কোনো অস্তিত্ব নেই।
শ্রীকৃষ্ণ এখানে এক অকল্পনীয় দর্শনের কথা বলেছেন। তিনি অসীম হয়েও ভক্তের প্রেমে ধরা দেন। বুদ্ধিবলে বা কঠোর তপস্যায় তাঁকে পুরোপুরি পাওয়া যায় না, কিন্তু একটি শিশুসুলভ সরল ভক্তি তাঁকে কাছে টেনে আনে।
'যস্যান্তঃস্থানি ভূতানি'—এর অর্থ হলো আমরা সবাই ভগবানের পেটের ভেতরে আছি। আমরা তাঁর থেকে আলাদা নই। এই উপলব্ধি আমাদের মনে অভয় দান করে। যদি আমরা তাঁর ভেতরেই থাকি, তবে আমাদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে আধ্যাত্মিকতা মানে একা হয়ে যাওয়া নয়, বরং সবার মাঝে ঈশ্বরকে দেখা। অনন্য ভক্তি মানে হলো আমাদের সব কর্ম ও চিন্তা কেবল কৃষ্ণের আনন্দের জন্য উৎসর্গ করা। এই আত্মসমর্পণই আমাদের মায়ার বন্ধন থেকে মুক্ত করার সহজতম পথ।