যত্র কালে ত্বনাবৃত্তিমা বৃত্তিং চৈব যোগিনঃ ।
প্রয়াতা যান্তি তং কালং বক্ষ্যামি ভরতষভ ॥ ৮.২৩ ॥
সরল ভাবার্থ:
হে ভরতশ্রেষ্ঠ! যে কালে (সময়ে বা মার্গে) দেহত্যাগ করলে যোগীগণ আর ফিরে আসেন না এবং যে কালে দেহত্যাগ করলে ফিরে আসতে হয়—আমি সেই কাল বা মার্গ সম্পর্কে তোমাকে বলব।
১. কাল বা মার্গ: এখানে 'কাল' মানে কেবল ঘড়ির সময় নয়, এটি হলো বিশেষ পথ বা গতির অবস্থা। যোগী কোন মানসিকতায় দেহত্যাগ করছেন, তা-ই তাঁর গতি নির্ধারণ করে।
২. অনারবৃত্তি ও আবৃত্তি: অনাবৃত্তি মানে মুক্তি, আর আবৃত্তি মানে আবার জন্মানো। জীবনের শেষ মুহূর্তের যাত্রাটি অত্যন্ত সূক্ষ্ম বৈজ্ঞানিক নিয়মে চলে।
৩. ভরতষভ সম্বোধন: অর্জুনকে শ্রেষ্ঠ বীর বলে সম্বোধন করে কৃষ্ণ তাঁকে এই মহাজাগতিক রহস্য শোনার জন্য প্রস্তুত করছেন।
শ্রীকৃষ্ণ এখানে যোগশাস্ত্রের এক গভীর তত্ত্বের অবতারণা করছেন। মৃত্যুর সময় আত্মা শরীর থেকে বেরিয়ে কোন পথে যাবে, তা একটি মহাজাগতিক ঘটনা। এই পথগুলো আমাদের আগের কর্ম ও বর্তমান চিন্তার ওপর নির্ভর করে।
অনেকে মনে করেন মৃত্যু মানে সব শেষ। কিন্তু কৃষ্ণ বলছেন মৃত্যু হলো একটি নতুন যাত্রার শুরু। এই যাত্রাটি কি অন্ধকার থেকে আলোর দিকে হবে, নাকি অন্ধকার থেকে আরও অন্ধকারে? সেটিই তিনি পরবর্তী শ্লোকগুলোতে ব্যাখ্যা করবেন।
এটি আমাদের জীবনের প্রতিটি দিনকে গুরুত্ব দিতে শেখায়। আমরা যদি মৃত্যুর মুহূর্তকে সার্থক করতে চাই, তবে আমাদের সারা জীবনের প্রতিটি মুহূর্তকে সেই লক্ষ্য অভিমুখী করতে হবে। এটি কেবল অর্জুনের জন্য নয়, প্রতিটি মানুষের জীবনের শেষ পরীক্ষার সিলেবাস।