॥ অধ্যায় ৮, শ্লোক ২৪ ॥

অগ্নির্জ্যোতিরহঃ শুক্লঃ ষন্মাসা উত্তরায়ণম্ ।
তত্র প্রয়াতা গচ্ছন্তি ব্রহ্ম ব্রহ্মবিদো জনাঃ ॥ ৮.২৪ ॥

সরল ভাবার্থ:

অগ্নি, জ্যোতি, দিন, শুক্লপক্ষ এবং উত্তরায়ণের ছয় মাস—এই মার্গে প্রয়াণকারী ব্রহ্মজ্ঞানী ব্যক্তিগণ ব্রহ্মকেই লাভ করেন।

১. আর্চিরাদি মার্গ বা দেবযান পথ: এটি হলো আলোর পথ। এখানে অগ্নি, জ্যোতি এবং সূর্য আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে। যারা জ্ঞানের আলোয় জীবন কাটান, তারা এই পথ পান।

২. উত্তরায়ণ: উত্তরায়ণ হলো সেই সময় যখন সূর্য উত্তর দিকে থাকে। একে অত্যন্ত শুভ মনে করা হয়। ভীষ্মদেব এই উত্তরায়ণের জন্যই অপেক্ষা করেছিলেন।

৩. ব্রহ্মপ্রাপ্তি: যারা এই আলোকোজ্জ্বল পথে যাত্রা করেন, তারা সরাসরি পরমাত্মায় বিলীন হন। তাঁদের আর পৃথিবীতে ফিরে এসে জন্ম নিতে হয় না।

এই শ্লোকটি প্রতীকিভাবে আমাদের আধ্যাত্মিক উন্নতির কথা বলে। 'অগ্নি' ও 'জ্যোতি' হলো জ্ঞানের প্রতীক। যারা সারাজীবন সত্যের আলোয় চলেছেন, মৃত্যুকালে তাঁদের আত্মা এক উজ্জ্বল ও পবিত্র পথ দিয়ে এগিয়ে যায়।

এটি কেবল ক্যালেন্ডারের সময় নয়, এটি চেতনার একটি স্তর। যার মন সবসময় জ্ঞান ও ভক্তির আলোয় উদ্ভাসিত, তাঁর জন্য প্রতিটি মুহূর্তই উত্তরায়ণ। এই স্তরে পৌঁছালে মানুষের জরা-মৃত্যুর ভয় থাকে না।

এটি আমাদের শেখায় যে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত আলোর দিকে যাওয়া। অজ্ঞানতা, কলহ এবং অহংকারের অন্ধকার থেকে নিজেকে মুক্ত করে শুক্লপক্ষ বা জ্যোতির পথে পা বাড়ানোই হলো প্রকৃত আধ্যাত্মিকতা। এই মার্গে যাত্রা করা মানে চিরন্তন স্বাধীনতার স্বাদ পাওয়া।