ধূমো রাত্রিস্তথা কৃষ্ণঃ ষন্মাসা দক্ষিণায়নম্ ।
তত্র চান্দ্রমসং জ্যোতিযোগী প্রাপ্য নিবর্ততে ॥ ৮.২৫ ॥
সরল ভাবার্থ:
ধূম, রাত্রি, কৃষ্ণপক্ষ এবং দক্ষিণায়নের ছয় মাস—এই মার্গে প্রয়াণকারী যোগী চন্দ্রের জ্যোতি প্রাপ্ত হন এবং পুনরায় এই মর্ত্যলোকে ফিরে আসেন।
১. ধূমাদি মার্গ বা পিতৃযান পথ: এটি হলো অন্ধকারের পথ। যারা সকাম কর্ম (ফলের আশায় কাজ) করেন, তাঁরা এই ধূমচ্ছন্ন পথে যাত্রা করেন।
২. দক্ষিণায়ন: এটি উত্তরায়ণের বিপরীত। এই সময় প্রকৃতিতে অন্ধকারের আধিক্য থাকে। এটি আধ্যাত্মিক বিচারে অতটা শুভ নয়।
৩. পুনরাবর্তন: এই পথে যারা যান, তারা স্বর্গে গিয়ে কিছুদিন সুখ ভোগ করেন (চান্দ্র জ্যোতি), কিন্তু পুণ্য শেষ হলে তাঁদের আবার এই দুঃখের সংসারে ফিরে আসতে হয়।
শ্রীকৃষ্ণ এখানে সতর্ক করছেন যে কেবল কিছু ভালো কাজ করে স্বর্গ যাওয়ার ইচ্ছা করা বোকামি। কারণ স্বর্গও স্থায়ী নয়। যেমন একটি হোটেলে টাকা ফুরিয়ে গেলে বের করে দেয়, স্বর্গের সুখও তেমনি পুণ্য ফুরিয়ে গেলে শেষ হয়ে যায়।
যারা বাসনা বা কামনা নিয়ে ধর্মকর্ম করেন, তাঁদের আত্মা এই অন্ধকার বা অস্পষ্ট পথে চলে। তাঁরা চিরস্থায়ী শান্তি পান না। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে আমাদের লক্ষ্য স্বর্গ হওয়া উচিত নয়, হওয়া উচিত পরমাত্মা বা মোক্ষ।
এটি জীবনের একটি বড় রিয়ালিটি চেক। আমরা যতই সুখ খুঁজি না কেন, যদি আমরা মূল সত্যের সাথে যুক্ত না হই, তবে আমাদের বারবার এই জন্ম-মৃত্যুর যন্ত্রণায় ফিরে আসতে হবে। এই পুনরাবর্তন থেকে মুক্তি পাওয়াই হলো গীতার আসল শিক্ষা।