শুক্লকৃষ্ণে গতী হ্যেতে জগতঃ শাশ্বতে মতে ।
একয়া যাত্যনাবৃত্তিমন্যয়াবর্ততে পুনঃ ॥ ৮.২৬ ॥
সরল ভাবার্থ:
জগতের এই শুক্ল এবং কৃষ্ণ—এই দুটি গতি বা মার্গ শাশ্বত বা চিরন্তন। একটির দ্বারা অনাবৃত্তি (মুক্তি) ঘটে এবং অন্যটির দ্বারা পুনরায় ফিরে আসতে হয়।
১. শাশ্বত দুটি পথ: সৃষ্টি শুরু হওয়ার পর থেকেই এই আলোক ও অন্ধকারের পথ দুটি বিদ্যমান। প্রতিটি আত্মাকে মৃত্যুর পর এই দুটির যেকোনো একটি বেছে নিতে হয়।
২. জ্ঞানের পথ বনাম বাসনার পথ: শুক্ল পথটি হলো জ্ঞানের (Knowledge), আর কৃষ্ণ পথটি হলো বাসনার (Desire)। আমরা সারাজীবন যা প্র্যাকটিস করব, মৃত্যুর পর সেই পথটিই আমাদের সামনে খুলে যাবে。
৩. স্বাধীন ইচ্ছা: ভগবান দুটি পথই খুলে রেখেছেন। এখন আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আমরা কি চিরমুক্তি চাই নাকি বারবার এই জন্ম-মৃত্যুর খেলায় অংশ নিতে চাই।
এই শ্লোকটি মহাবিশ্বের এক মৌলিক আইনের কথা বলে। দ্বৈততা (Duality) সবখানেই আছে—দিন ও রাত, সুখ ও দুঃখ, আলো ও অন্ধকার। কিন্তু বুদ্ধিমান মানুষ সেই পথটিই বেছে নেন যা তাঁকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়।
এটি আমাদের জীবনের প্রতিটি কাজের গুরুত্ব মনে করিয়ে দেয়। আমাদের প্রতিটি চিন্তাই আমাদের হয় শুক্ল পথের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, নয়তো কৃষ্ণ পথের দিকে। এটি এক প্রকারের আধ্যাত্মিক ইনভেস্টমেন্ট।
আমরা যদি প্রতিনিয়ত ভগবানের নাম ও সেবা করি, তবে আমরা অজান্তেই আমাদের জন্য শুক্ল পথটি তৈরি করছি। এই শ্লোকটি আমাদের জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে চূড়ান্তভাবে সজাগ করে দেয়। এটি প্রমাণ করে যে ঈশ্বর আমাদের ওপর জোর করেন না, বরং তিনি আমাদের সঠিক পথটি চেনার বুদ্ধি দেন।