॥ অধ্যায় ৯, শ্লোক ৩৪ ॥

মনমনা ভব মদ্ভক্তো মদ্যাজী মাং নমস্কুরু ।
মামেবৈষ্যসি যুক্ত্বৈবমাত্মানং মৎপরায়ণঃ ॥ ৯.৩৪ ॥

সরল ভাবার্থ:

আমাতে মন অর্পণ করো, আমার ভক্ত হও, আমার পূজা করো এবং আমাকেই নমস্কার করো। এইভাবে আমাতেই নিবিষ্ট হয়ে এবং আমাকেই পরম লক্ষ্য হিসেবে জেনে তুমি আমাকেই লাভ করবে।

১. মনমনা ভব: মনকে কৃষ্ণের চিন্তায় ডুবিয়ে রাখা। আমাদের সব ভাবনার কেন্দ্রবিন্দু হোক পরমাত্মা।

২. মদ্যাজী ও নমস্কুরু: প্রতিটি কাজকে পূজা হিসেবে ভাবা এবং প্রতিটি সত্তার মাঝে ঈশ্বরকে দেখে শ্রদ্ধা জানানো। এতে অহংকার বিনাশ হয়।

৩. মৎপরায়ণঃ: এর অর্থ হলো—ঈশ্বরই আমার জীবনের একমাত্র গতি। যখন আমাদের লক্ষ্য একমুখী হয়, তখনই ঈশ্বরপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়।

নবম অধ্যায়ের এই শেষ শ্লোকটি হলো পুরো গীতার নির্যাস। এটি আঠারোতম অধ্যায়েও পুনরায় বলা হয়েছে। কৃষ্ণ এখানে আমাদের সম্পূর্ণ রূপরেখা দিচ্ছেন—মন (চিন্তা), ভক্তি (আবেগ), যজন (কর্ম) এবং নমস্কার (বিনয়)। আমাদের অস্তিত্বের প্রতিটি দিক যখন কৃষ্ণাভিমুখী হয়, তখন মুক্তি আমাদের হাতের মুঠোয় আসে।

এটি আমাদের শেখায় যে ভক্তি কেবল মন্দিরে বসে থাকা নয়। মনমনা হওয়ার অর্থ হলো অফিসে কাজ করার সময়ও মনে মনে কৃষ্ণের সান্নিধ্য অনুভব করা। এই শ্লোকটি আমাদের এক অখণ্ড জীবনদর্শন দেয় যেখানে প্রতিটি নিঃশ্বাস হয়ে ওঠে প্রার্থনা।

ধর্মীয় বিচারে, এটি আমাদের জীবনের চূড়ান্ত সাফল্যের চাবিকাঠি। 'মামেবৈষ্যসি'—অর্থাৎ তুমি আমাকেই পাবে। শ্রীকৃষ্ণের এই চিরন্তন প্রতিশ্রুতি আমাদের সব ভয় ও শঙ্কা দূর করে দেয়। নবম অধ্যায়ের এই সমাপ্তি আমাদের এক পরম নিশ্চিন্ত আশ্রয়ের হদিশ দেয়। এটিই রাজবিদ্যা ও রাজগুহ্য তত্ত্বের চরম উৎকর্ষ।