॥ অধ্যায় ১, শ্লোক ১৫ ॥

পাঞ্চজন্যং হৃষীকেশো দেবদত্তং ধনঞ্জয়ঃ ।
পৌণ্ড্রং দধ্মৌ মহাশঙ্খং ভীমকর্মা বৃকোদরঃ ॥ ১৫ ॥

সরল ভাবার্থ

হৃষীকেশ (শ্রীকৃষ্ণ) তাঁর 'পাঞ্চজন্য' শঙ্খ বাজালেন, ধনঞ্জয় (অর্জুন) বাজালেন 'দেবদত্ত' এবং ভয়ানক শক্তিশালী বৃকোদর (ভীম) তাঁর 'পৌণ্ড্র' নামক মহাশঙ্খ বাজালেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এখানে পাণ্ডব পক্ষের প্রধান তিন মহারথীর শঙ্খের বিশেষ নাম উল্লেখ করা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণকে এখানে 'হৃষীকেশ' বলা হয়েছে, যার অর্থ হলো—যিনি আমাদের ইন্দ্রিয়ের অধিপতি। তাঁর শঙ্খের নাম 'পাঞ্চজন্য'। অর্জুনের শঙ্খের নাম 'দেবদত্ত', যা তিনি বরুণদেবের কাছ থেকে উপহার পেয়েছিলেন। ভীমের শঙ্খের নাম 'পৌণ্ড্র'। ভীমকে এখানে 'বৃকোদর' বলা হয়েছে কারণ তাঁর ক্ষুধা ও শক্তি ছিল অগ্নির মতো প্রবল।

ধর্মীয় তত্ত্বে শঙ্খের এই বিশেষ নামগুলো তাদের প্রভাব ও বীরত্বের প্রতীক। হৃষীকেশ যখন শঙ্খ বাজান, তখন তা সমস্ত জীবের চেতনাকে জাগ্রত করে। এটি কেবল যুদ্ধের ডাক নয়, এটি হলো আত্মার মুক্তির ডাক। অর্জুন যখন দেবদত্ত বাজান, তখন তা কুরুক্ষেত্রের আকাশে অধর্মের বিরুদ্ধে জয়ের প্রতিধ্বনি হয়ে ছড়িয়ে পড়ে। ভীমের শঙ্খধ্বনি ছিল সবচাইতে ভয়ংকর, যা শুনে কৌরব সৈন্যদের মনে কাঁপন ধরে গিয়েছিল।

এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে, যখন আমরা সঠিক কাজের সাথে যুক্ত থাকি, তখন আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপ এবং আমাদের ব্যবহার করা প্রতিটি হাতিয়ারই বিশেষ মহিমা পায়। পাণ্ডবদের এই শঙ্খধ্বনি কৌরবদের কোলাহলকে সম্পূর্ণ ছাপিয়ে দিয়েছিল। এটিই হলো গুণের পার্থক্য। কৌরবদের পক্ষে অনেক বাদ্যযন্ত্র ছিল ঠিকই, কিন্তু পাণ্ডবদের এই তিনটি শঙ্খের তেজই ছিল যথেষ্ট। হৃষীকেশ শ্রীকৃষ্ণ আমাদের ইন্দ্রিয়কে নিয়ন্ত্রণ করেন; তাই তাঁর শঙ্খনাদ মানেই হলো আমাদের জীবনের সব বিশৃঙ্খলা দূর করার সংকেত। এই দিব্যধ্বনি শোনামাত্রই রণাঙ্গনের পরিবেশ বদলে গেল এবং অর্জুন নিজের গাণ্ডীব ধনুক হাতে যুদ্ধের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে শুরু করলেন।


Image description
[ছবি: সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে শ্রীকৃষ্ণ পাঞ্চজন্য, অর্জুন দেবদত্ত এবং ভীম তাঁদের বিশাল পৌণ্ড্র শঙ্খ বাজাচ্ছেন।]