সরল ভাবার্থ
কুন্তীপুত্র রাজা যুধিষ্ঠির 'অনন্তবিজয়' নামক শঙ্খ বাজালেন এবং নকুল ও সহদেব যথাক্রমে 'সুঘোষ' ও 'মণিপুষ্পক' নামক শঙ্খ বাজালেন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
পাণ্ডবদের শঙ্খনাদের ধারা বজায় রেখে জ্যেষ্ঠ পাণ্ডব যুধিষ্ঠির তাঁর শঙ্খ বাজালেন। যুধিষ্ঠিরকে এখানে 'রাজা' এবং 'কুন্তীপুত্র' বলে সম্বোধন করা হয়েছে। তাঁর শঙ্খের নাম 'অনন্তবিজয়', যার অর্থ হলো এমন এক বিজয় যার কোনো শেষ নেই—অর্থাৎ আধ্যাত্মিক বিজয়। ধর্মরাজ যুধিষ্ঠির যুদ্ধের ময়দানে থাকলেও তাঁর লক্ষ্য ছিল ধর্মের বিজয় প্রতিষ্ঠা করা। নকুলের শঙ্খ 'সুঘোষ' (সুমিষ্ট ধ্বনি) এবং সহদেবের শঙ্খ 'মণিপুষ্পক' (রত্নখচিত) তাদের ব্যক্তিগত চারিত্রিক মাধুর্য ও আভিজাত্যের প্রতীক।
ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই পাঁচটি শঙ্খ (শ্রীকৃষ্ণ, অর্জুন, ভীম, নকুল ও সহদেবের) একত্রে এক পবিত্র ওঙ্কারের সৃষ্টি করেছিল। যুধিষ্ঠির সাধারণ অর্থে রাজা হলেও তিনি ছিলেন ধর্মের মূর্ত প্রতীক। যখন ধর্ম নিজেই শঙ্খ বাজায়, তখন অধর্মের ভীত কেঁপে উঠতে বাধ্য। কৌরবদের কোলাহল ছিল বিশৃঙ্খল, কিন্তু পাণ্ডবদের এই শঙ্খধ্বনি ছিল সুশৃঙ্খল এবং ঐশ্বরিক। নকুল ও সহদেব কনিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও তাদের বীরত্ব ও রণসজ্জা ছিল নিখুঁত। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে, একটি বৃহৎ লক্ষ্যের জন্য পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে (ছোট বা বড়) নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হয়। যুধিষ্ঠিরের শঙ্খধ্বনি যেন বার্তা দিচ্ছিল যে—অন্যায় দিয়ে জয় সাময়িক হতে পারে, কিন্তু সত্যের বিজয়ই চিরন্তন বা অনন্ত। এই ঐশ্বরিক ধ্বনিগুলো যুদ্ধের শুরুর আগে পাণ্ডব শিবিরের আত্মবিশ্বাসকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
[ছবি: রাজা যুধিষ্ঠির সোনালী রথে দাঁড়িয়ে বড় একটি শঙ্খ বাজাচ্ছেন, তাঁর পাশে নকুল ও সহদেব তাঁদের সুসজ্জিত শঙ্খ হাতে দাঁড়িয়ে আছেন।]