সরল ভাবার্থ
হে পৃথিবীপতি ধৃতরাষ্ট্র! রাজা দ্রুপদ, দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্র এবং সুভদ্রাপুত্র মহাবাহু অভিমন্যু—তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ শঙ্খ বাজাতে শুরু করলেন।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
সঞ্জয় ধৃতরাষ্ট্রকে 'পৃথিবীপতি' বলে সম্বোধন করে শ্লেষাত্মকভাবে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, পুরো পৃথিবীর অধিপতি হয়েও তিনি তাঁর পুত্রদের অধর্ম থেকে ফেরাতে পারেননি। এখন সেই পৃথিবীর বীর যোদ্ধারা তাঁর পুত্রদের বিরুদ্ধেই অস্ত্র তুলে নিয়েছেন। রাজা দ্রুপদ ছিলেন পাণ্ডবদের শ্বশুর এবং পাঞ্চাল রাজ্যের অধিপতি, যিনি দ্রোণাচার্যের অহংকার চূর্ণ করার সংকল্প নিয়ে এই যুদ্ধে এসেছিলেন। দ্রৌপদীর পাঁচ পুত্র (প্রতিবিন্ধ্য, সুতসোম, শ্রুতকর্মা, শতানীক ও শ্রুতসেন) ধর্মেরক্ষার জন্য নবীন প্রজন্মের ত্যাগের প্রতীক। তাঁরা প্রবীণদের মতোই তেজস্বিতার সাথে তাঁদের শঙ্খ বাজালেন।
সবশেষে অভিমন্যুর নাম নেওয়া হয়েছে, যাকে 'মহাবাহু' বলা হয়েছে। অভিমন্যু ছিলেন স্বয়ং শ্রীকৃষ্ণের ভাগ্নে এবং অর্জুনের যোগ্য উত্তরসূরি। তাঁর শঙ্খনাদ কৌরব শিবিরে এক বিশেষ আতঙ্কের সৃষ্টি করেছিল, কারণ অভিমন্যু একাই ছিলেন এক বিশাল সেনাবাহিনীর সমতুল্য। 'পৃথক্ পৃথক্' শঙ্খ বাজানোর অর্থ হলো—প্রত্যেক বীরের বীরত্ব আলাদা হলেও তাদের উদ্দেশ্য ছিল অভিন্ন। ধর্মীয় বিচারে এটি এক মহাসংগীতের মতো। অধর্ম যখন কোলাহল করে, ধর্ম তখন সুশৃঙ্খলভাবে নিজের বিজয় ঘোষণা করে। এই শ্লোকটি আমাদের জীবনের একটি বড় শিক্ষা দেয়—যখন পরিবারের প্রতিটি সদস্য এবং সমাজের প্রতিটি অংশ সত্যের পক্ষে দাঁড়ায়, তখন সেই সম্মিলিত শক্তি অজেয় হয়ে ওঠে। কৌরবদের সৈন্যরা বাজনা বাজাচ্ছিল দম্ভে, আর পাণ্ডব বীররা শঙ্খ বাজাচ্ছিলেন ন্যায়ের শপথে। এই শঙ্খধ্বনি যেন বার্তা দিচ্ছিল যে, নতুনের আগমনে পুরাতনের অন্যায় ধ্বংস হওয়া সুনিশ্চিত।
[ছবি: তেজস্বী অভিমন্যু এবং দ্রৌপদীর পঞ্চপুত্র তাঁদের সুসজ্জিত রথের ওপর দাঁড়িয়ে একসাথে শঙ্খ বাজাচ্ছেন।]