সরল ভাবার্থ
আমার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অবসন্ন হচ্ছে, মুখ শুকিয়ে যাচ্ছে, আমার শরীর কাঁপছে এবং রোমাঞ্চ (গায়ের লোম খাড়া হওয়া) হচ্ছে।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
অর্জুনের মানসিক শোক এখন তাঁর শরীরে তীব্রভাবে প্রতিফলিত হচ্ছে। তিনি চারটি প্রধান দৈহিক লক্ষণের কথা বলছেন—গাত্রাবসাদ, মুখশোষ, কম্পন এবং রোমহর্ষ। যে অর্জুন ইন্দ্রের সাথে যুদ্ধ করে অপরাজিত থেকেছেন, যাঁর গাণ্ডীবের টঙ্কারে দিক-বিদিক কেঁপে উঠত, আজ সেই বীরের শরীর শোকে ভেঙে পড়ছে। মুখ শুকিয়ে যাওয়া মানে হলো প্রাণের রস শুকিয়ে যাওয়া। শরীর কাঁপছে কারণ তাঁর মন স্থিরতা হারিয়েছে।
ধর্মীয় দিক থেকে এটি হলো 'ভয়ংকর মোহ'। অর্জুন মনে করছেন যে এই যুদ্ধ করলে তিনি বড় পাপ করবেন। যখন মানুষ ধর্মের সূক্ষ্ম গতি বুঝতে পারে না, তখন সে বাহ্যিক ফলাফল দেখে ঘাবড়ে যায়। অর্জুনের এই রোমহর্ষ বা গায়ের লোম খাড়া হওয়া কোনো ভক্তিজনিত রোমাঞ্চ নয়, এটি হলো আতঙ্কের রোমাঞ্চ। তিনি দেখছেন সামনে ধ্বংস ছাড়া আর কিছু নেই। আধ্যাত্মিক পথে এগোনোর সময় আমাদেরও এমন দশা হয়—পুরানো অভ্যাস ছাড়তে গিয়ে মন ছটফট করে, শরীর অবশ হয়ে আসে। অর্জুনের এই অবস্থা আমাদের শেখায় যে, মানুষ যতই বড় বীর হোক না কেন, ঈশ্বরের জ্ঞান ছাড়া সে আসলে অত্যন্ত অসহায়। মোহ মানুষের স্নায়ুুতন্ত্রকে অবশ করে দেয়। অর্জুন এখানে তাঁর ক্ষত্রিয় আভিজাত্য পুরোপুরি হারিয়ে একজন সাধারণ আর্ত মানুষের মতো কথা বলছেন। শ্রীকৃষ্ণ চাইলেন অর্জুনকে এই তলানিতে নিয়ে যেতে, যাতে সেখান থেকে তাঁকে পূর্ণজ্ঞানে জাগিয়ে তোলা যায়।
[ছবি: অর্জুনের কাঁপানো হাত এবং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া মুখের এক ক্লোজ-আপ দৃশ্য, যেখানে তাঁর অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে।]