সরল ভাবার্থ
হে কেশব! আমি কেবল বিপরীত লক্ষণই (কু-লক্ষণ) দেখতে পাচ্ছি। যুদ্ধে নিজের স্বজনদের হত্যা করে কোনো কল্যাণ হবে বলে আমার মনে হয় না।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
অর্জুন এখন তাঁর যুক্তি দিয়ে নিজের পলায়নপর মানসিকতাকে সমর্থন করার চেষ্টা করছেন। তিনি শ্রীকৃষ্ণকে 'কেশব' বলে ডাকছেন—যিনি কেশী নামক অসুরকে বধ করেছিলেন। এর মাধ্যমে তিনি যেন বলছেন যে, অসুর মারা সহজ কিন্তু নিজের স্বজনদের মারা অসম্ভব। অর্জুন চারদিকে 'বিপরীত নিমিত্ত' বা অশুভ সংকেত দেখতে পাচ্ছেন। এটি অদ্ভুত, কারণ শ্রীকৃষ্ণ সাথে থাকলে কোনো সংকেতই অশুভ হতে পারে না। আসলে অর্জুনের মনের অন্ধকারই বাইরের জগতকে অন্ধকারময় করে দেখাচ্ছে।
ধর্মীয় বিচারে, অর্জুন এখানে 'শ্রেয়' এবং 'প্রেয়' এর দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন। তিনি মনে করছেন স্বজনদের হত্যা করা অমঙ্গলজনক। তিনি যুদ্ধের বৃহত্তর লক্ষ্য—অর্থাৎ ধর্মরাজ্য প্রতিষ্ঠা—ভুলে গিয়ে কেবল ব্যক্তিগত দুঃখকেই বড় করে দেখছেন। অর্জুন বলছেন যে এই যুদ্ধের ফলে কোনো 'শ্রেয়' বা কল্যাণ হবে না। অর্জুনের এই ভ্রান্ত যুক্তি আমাদের শেখায় যে, অপূর্ণ জ্ঞান নিয়ে কোনো বিষয়ের ওপর সিদ্ধান্তে আসা উচিত নয়। তিনি ভাবছেন তিনি দয়া করছেন, কিন্তু আসলে তিনি তাঁর দায়িত্ব থেকে পালাচ্ছেন। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে এই যুক্তির বেড়াজাল থেকে মুক্ত করে এক উচ্চতর ধর্মের দিকে নিয়ে যাবেন, যেখানে ব্যক্তিগত সম্পর্কের চেয়ে ন্যায় বড়। অর্জুন এখন তাঁর নিজের বুদ্ধিকে ঈশ্বরের বুদ্ধির চেয়ে বড় মনে করতে শুরু করেছেন, যা মায়ারই একটি লক্ষণ।
[ছবি: অর্জুন আকাশের দিকে তাকিয়ে আছেন এবং অমঙ্গলজনক কোনো কিছুর আভাস পেয়ে শিউরে উঠছেন।]