॥ অধ্যায় ১, শ্লোক ৩৮ ॥

য়দ্যপ্যেতে ন পশ্যন্তি লোভোপহতচেতসঃ ।
কুলক্ষয়কৃতং দোষং মিত্রদ্রোহে চ পাতকম্ ॥ ৩৮ ॥

সরল ভাবার্থ

যদিও এঁরা লোভে আচ্ছন্ন হয়ে কুলক্ষয়জনিত দোষ এবং মিত্রদ্রোহজনিত পাপ দেখতে পাচ্ছেন না...

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

অর্জুন এখানে দুর্যোধন ও তাঁর পক্ষীয়দের মানসিক অবস্থাকে 'লোভোপহতচেতসঃ' বলে বর্ণনা করেছেন। এর অর্থ হলো—যাদের চেতনা বা বিচারবুদ্ধি লোভের দ্বারা বিনাশ হয়েছে। অর্জুন লক্ষ্য করছেন যে, কৌরবরা রাজ্য ও ক্ষমতার মোহে এতটাই অন্ধ যে তারা একটি বিশাল বংশের ধ্বংস বা বন্ধুদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করার যে ভয়াবহ পাপ, তা তারা অনুভব করতে পারছে না। এখানে অর্জুন এক ধরণের নৈতিক উচ্চতা থেকে কথা বলছেন।

ধর্মীয় প্রেক্ষাপটে, লোভ হলো মানুষের ছয়টি প্রধান রিপুর (ষড়রিপু) একটি। লোভ যখন মনের ওপর নিয়ন্ত্রণ নেয়, তখন মানুষ ন্যায়-অন্যায়ের পার্থক্য ভুলে যায়। অর্জুন এখানে বোঝাতে চাইছেন যে, তিনি কৌরবদের চেয়েও বড় জ্ঞানী কারণ তিনি অন্তত পরিণতির কথা ভাবছেন। মিত্রদ্রোহ বা বিশ্বাসভঙ্গ করা হিন্দু শাস্ত্র অনুযায়ী এক মহাপাপ। অর্জুন ভাবছেন যে কুলক্ষয় বা বংশ ধ্বংস হওয়া মানে হলো পুরো সমাজের পবিত্রতা নষ্ট করা। কিন্তু এখানে অর্জুনের একটি সূক্ষ্ম অহংকার প্রকাশ পাচ্ছে। তিনি ভাবছেন তিনি শ্রীকৃষ্ণের চেয়েও ভালো বোঝেন যে কী করলে ভালো হবে। লোভের বশবর্তী হয়ে কৌরবরা যা করছে তা অন্যায়, কিন্তু সেই অন্যায়ের বিচার না করা বা অন্যায়কারীর সামনে থেকে পালিয়ে যাওয়াও যে অধর্ম, তা অর্জুন এখনও বুঝতে পারছেন না। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে, অন্যর ভুল ধরা সহজ কিন্তু নিজের মোহ কাটানো কঠিন। অর্জুনের এই যুক্তিগুলো আসলে তাঁর যুদ্ধ থেকে পালানোর একটি বৌদ্ধিক ঢাল মাত্র।


[ছবি: অর্জুন রণক্ষেত্রের দিকে তাকিয়ে আক্ষেপ করছেন এবং তাঁর পাশে কৃষ্ণ মৌন হয়ে তাঁর যুক্তিগুলো বিশ্লেষণ করছেন।]