॥ অধ্যায় ১, শ্লোক ৩৯ ॥

কথং ন জ্ঞেয়মস্মাভিঃ পাপাদস্মান্নিবর্তিতুম্ ।
কুলক্ষয়কৃতং দোষং প্রপশ্যদ্ভির্বিজনার্দন ॥ ৩৯ ॥

সরল ভাবার্থ

হে জনার্দন! আমরা যারা কুলক্ষয়ের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে অবগত, আমাদের কেন এই পাপ থেকে নিবৃত্ত হওয়া উচিত নয়?

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

অর্জুন এখানে শ্রীকৃষ্ণকে 'জনার্দন' বলে ডেকে এক ধরণের নৈতিক দাবি তুলছেন। তিনি বলছেন যে, কৌরবরা অজ্ঞ হতে পারে, তারা লোভী হতে পারে, কিন্তু আমরা তো শিক্ষিত এবং বিবেকবান। আমরা যদি জানি যে এই যুদ্ধের ফলে পুরো বংশ ধ্বংস হয়ে যাবে এবং সমাজ রসাতলে যাবে, তবে কেন আমরা এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছি না? অর্জুন এখানে 'প্রপশ্যদ্ভিব্' বা 'পরিষ্কার দেখা' শব্দটির মাধ্যমে তাঁর দূরদর্শিতা দাবি করছেন।

ধর্মীয় ও দার্শনিক বিচারে, অর্জুনের এই যুক্তিটি হলো 'ভ্রান্ত জ্ঞান'। তিনি মনে করছেন যে যুদ্ধ না করাই হলো শান্তি। কিন্তু তিনি ভুলে গেছেন যে অনেক সময় ক্যান্সার আক্রান্ত অংশকে শরীর থেকে বাদ না দিলে পুরো শরীর মারা যায়। অর্জুন কেবল ধ্বংসের দৃশ্য দেখছেন, কিন্তু সেই ধ্বংসের পর যে নতুনের উত্থান হবে, তা তিনি দেখতে পাচ্ছেন না। শ্রীকৃষ্ণ এখানে নিরব দর্শক হয়ে দেখছেন যে অর্জুন কত ধরণের তর্কর জাল বুনতে পারেন। অর্জুন নিজেকে একজন ধার্মিক ব্যক্তি হিসেবে উপস্থাপন করছেন যিনি পাপ থেকে বাঁচতে চান। কিন্তু ভগবানের নির্দেশ না পালন করাও যে এক ধরণের পাপ, তা অর্জুন ভুলে গেছেন। মানুষের মন যখন কোনো দায়িত্ব থেকে পালাতে চায়, তখন সে নিজেকে খুব মহান প্রমাণ করার জন্য এমন সব যুক্তি দেয় যা বাইরে থেকে খুব সুন্দর দেখায়। অর্জুনের এই আর্তনাদ আসলে প্রত্যেকটি মানুষের দ্বন্দ—যখন সে কঠিন সত্যের মুখোমুখি হতে ভয় পায়। তিনি ভাবছেন তিনি কুল রক্ষা করছেন, কিন্তু আসলে তিনি অধর্মকেই প্রশ্রয় দিচ্ছেন।


[ছবি: অর্জুন রথের ওপর এক হাত তুলে কৃষ্ণকে বোঝানোর চেষ্টা করছেন এবং তাঁর চেহারায় এক ধরণের গভীর সংশয় ফুটে উঠছে।]