সরল ভাবার্থ
অতৃপ্ত কামনার আশ্রয় গ্রহণ করে, দম্ভ, মান ও মদে মত্ত আসুরিক ব্যক্তিরা মোহাচ্ছন্ন হয়ে অশুভ ও মিথ্যা সংকল্পে ব্রতী হয় এবং অপবিত্র কার্যে লিপ্ত থাকে।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
ভগবান এখানে আসুরিকদের মনস্তাত্ত্বিক যন্ত্রণার কথা বলছেন। তারা যে 'কাম' বা বাসনার পেছনে ছুটছে, তা 'দুষ্পূরং'—অর্থাৎ যা কখনোই পূর্ণ হওয়ার নয়। বাসনা হলো আগুনের মতো, যাতে ঘি ঢাললে তা আরও বৃদ্ধি পায়। তারা দম্ভ (লোকদেখানো গুণ), মান (অহংকার) এবং মদ (মত্ততা) দ্বারা অন্ধ হয়ে যায়। এই মানসিকতা তাদের 'মোহ' বা ভ্রান্তির দিকে ঠেলে দেয়।
এই শ্লোকে 'অসদ্গ্রাহান্' শব্দটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এর অর্থ হলো তারা এমন সব আদর্শ বা লক্ষ্য বেছে নেয় যা মিথ্যা ও ক্ষণস্থায়ী। যেমন—অন্যায্য পথে ধন উপার্জন বা ক্ষমতা দখল। তাদের জীবনযাত্রাকে বলা হয়েছে 'অশুচিব্রতাঃ' বা অপবিত্র ব্রত। তারা নিজেদের ভোগ লালসা মেটানোর জন্য যেকোনো নোংরা বা অসামাজিক কাজ করতে দ্বিধা করে না। তারা মনে করে এর মাধ্যমেই পরম সুখ পাওয়া যাবে, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তারা এক অনন্ত অতৃপ্তির চক্রে বন্দি হয়ে পড়ে। এই শ্লোকটি আমাদের সাবধান করে যে, বাসনাকে পূজা না করে তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। বাসনার দাস হওয়া মানেই হলো আসুরিকতার প্রথম ধাপে পা রাখা। জীবনের লক্ষ্য যদি পবিত্র না হয়, তবে মানুষের সমস্ত পরিশ্রম কেবল অশান্তিই বয়ে আনে।
তাত্ত্বিক গভীরতা: কামনার নিবৃত্তি কামে হয় না, ত্যাগে হয়। আসুরিক ব্যক্তি ত্যাগের মহিমা বোঝে না বলেই মোহের জালে আটকা পড়ে। অপবিত্র সংকল্প মানুষকে পশুবৎ জীবনযাপনে বাধ্য করে।