সরল ভাবার্থ
মৃত্যু পর্যন্ত চলতে থাকা অপরিসীম দুশ্চিন্তায় তারা মগ্ন থাকে। ইন্দ্রিয়সুখ উপভোগই তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য। শত শত আশার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এবং কাম ও ক্রোধের বশবর্তী হয়ে তারা বিষয়ভোগের জন্য অন্যায়ভাবে ধন উপার্জনের চেষ্টা করে।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এই শ্লোক দুটি আধুনিক ভোগবাদী সমাজের এক জীবন্ত দলিল। 'চিন্তামপরিমেয়াং'—তাদের দুশ্চিন্তার কোনো সীমা নেই। কারণ যখন কোনো ব্যক্তি মনে করে যে এই ক্ষুদ্র জীবনটাই সব ('এতাবদিতি নিশ্চিতাঃ'), তখন সে প্রতিটি মুহূর্তে হারানোর ভয়ে কাঁপে। তাদের দুশ্চিন্তা 'প্রলয়ান্তাম' অর্থাৎ মৃত্যু না আসা পর্যন্ত থামে না। শ্রীকৃষ্ণ এখানে দেখিয়েছেন যে, যারা ঈশ্বরহীন এবং কেবল জড়বাদী, তারা ভেতরে ভেতরে কতটা অশান্ত।
তাদের অবস্থা বর্ণনা করা হয়েছে 'আশাপাশশতৈর্বদ্ধাঃ' বা শত শত আশার জালে বন্দি হিসেবে। একটি কামনা পূর্ণ হলে দশটি নতুন কামনা তৈরি হয়। এই জালে আটকা পড়ে তারা কাম ও ক্রোধের পুতুল হয়ে যায়। যেহেতু তাদের কামনার শেষ নেই, তাই বৈধ পথে উপার্জিত অর্থ তাদের কাছে যথেষ্ট মনে হয় না। ফলস্বরূপ, তারা 'অন্যায়েনার্থসঞ্চয়ান্' বা দুর্নীতির পথে পা বাড়ায়। অন্যের হক মেরে, মিথ্যা বলে বা প্রতারণা করে তারা সম্পদ জমায় কেবল ইন্দ্রিয়সুখের আশায়। কিন্তু ট্র্যাজেডি হলো, এই পাহাড়প্রমাণ সম্পদ ও ইন্দ্রিয়ভোগ তাদের সেই অন্তহীন দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তি দিতে পারে না। এই শ্লোক আমাদের শেখায় যে, জীবনের সঠিক ভিত্তি না থাকলে প্রাচুর্যও অভিশাপ হয়ে দাঁড়ায়। মানসিক শান্তি ধন-সম্পদে নয়, বরং কামনার সংযম এবং আধ্যাত্মিক সন্তুষ্টির মধ্যে নিহিত।
তাত্ত্বিক গভীরতা: আসুরিক জীবনের ভিত্তি হলো ভয় এবং লোভ। কামকে জীবনের ধ্রুবতারা বানালে অশান্তি অনিবার্য। অন্যায্য ধন সঞ্চয় আত্মার জন্য এক ভারী শৃঙ্খল যা তাকে কখনোই উড়তে দেয় না।