॥ অধ্যায় ১৬, শ্লোক ১৮ ॥

অহংকারং বলং দর্পং কামং ক্রোধং চ সংশ্রিতাঃ ।
মামাত্মপরদেহেষু প্রদ্বিষন্তোঽভ্যসূয়কাঃ ॥ ১৮ ॥

সরল ভাবার্থ

অহংকার, শক্তি, দর্প, কাম ও ক্রোধের আশ্রয় গ্রহণ করে সেই নিন্দুক ব্যক্তিরা নিজের এবং অন্যের দেহে অবস্থিত আমাকে (পরমাত্মাকে) দ্বেষ করে।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এই শ্লোকটি আসুরিক মনস্তত্ত্বের একদম মূলে আঘাত করে। আসুরিক ব্যক্তিরা মনে করে তারাই শক্তির চূড়ান্ত উৎস। তারা অহংকার (মিথ্যা পরিচয়), বল (অন্যকে শোষণ করার শক্তি), দর্প (গর্ব), কাম (লালসা) এবং ক্রোধের দাস হয়ে পড়ে। কিন্তু এই পাঁচটি দোষের চেয়েও বড় অপরাধ হলো 'প্রদ্বিষন্তঃ' বা বিদ্বেষ। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে, পরমাত্মা প্রতিটি জীবের হৃদয়ে অবস্থান করেন। যখন আসুরিক ব্যক্তিরা নিজের শরীরের ওপর অত্যাচার করে (অতিরিক্ত ভোগ বা অপবিত্র আচরণের মাধ্যমে) অথবা অন্যের ওপর নিষ্ঠুরতা চালায়, তখন তারা আসলে সেই শরীরের ভেতরে থাকা পরমাত্মাকেই অপমান ও দ্বেষ করে।

তাদের মধ্যে 'অভ্যসূয়কাঃ' বা দোষারোপ করার প্রবৃত্তি থাকে। তারা সাধু-পুরুষদের নিন্দা করে এবং শাস্ত্রীয় বাণীর সমালোচনা করে। এই দ্বেষের কারণ হলো তাদের অহংকার। তারা মনে করে যদি ঈশ্বর থাকেন বা কোনো নৈতিক নিয়ম থাকে, তবে তারা তাদের খুশিমতো জীবনযাপন করতে পারবে না। তাই তারা ঈশ্বরের অস্তিত্বকে অস্বীকার করে অথবা উপহাস করে। এই মানসিকতা তাদের আত্মিক বিনাশ ঘটায়। প্রতিটি জীবের মধ্যে ঈশ্বরকে দেখতে না পাওয়া এবং কেবল নিজের স্বার্থ দেখা হলো আসুরিকতার চূড়ান্ত লক্ষণ। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে, পরনিন্দা এবং অন্যের প্রতি হিংসা প্রকারান্তরে ভগবানেরই নিন্দা। সকল জীবের প্রতি সম্মান প্রদর্শনই হলো প্রকৃত ঈশ্বরভক্তি।
তাত্ত্বিক গভীরতা: ঈশ্বর কোনো দূরের আকাশবাসী নন, তিনি অন্তর্যামী। অন্যের দেহে তাঁকে কষ্ট দেওয়া মানেই হলো পরমেশ্বরকে কষ্ট দেওয়া। আসুরিক ব্যক্তিরা নিজেদের অজ্ঞতার কারণেই এই পরম সত্য বুঝতে পারে না।