॥ অধ্যায় ১৬, শ্লোক ১৯ ॥

তানহং দ্বিষতঃ ক্রূরান্ সংসারেষু নরাধমান্ ।
ক্ষিপাম্যজস্রমশুভানাসুরীষ্বেব যোনিষু ॥ ১৯ ॥

সরল ভাবার্থ

সেই বিদ্বেষী, নিষ্ঠুর এবং অশুভকারী নরাধমদের আমি এই জন্ম-মৃত্যুরূপ সংসারে বারবার অশুভ আসুরী যোনিতেই (নিকৃষ্ট জন্ম) নিক্ষেপ করি।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এটি ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এক কঠোর বিচার বা প্রাকৃতিক নিয়মের বর্ণনা। ভগবান এখানে বলছেন যে, যারা জগত ও ঈশ্বরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করে এবং অত্যন্ত 'ক্রূর' বা নিষ্ঠুর কাজ করে, তারা মানুষ নামের অযোগ্য বা 'নরাধম'। প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী, যার মন যেমন, সে অন্তিমে তেমনই গতি পায়। যেহেতু তাদের মন আসুরিক হিংসা ও অহংকারে পূর্ণ, তাই তাদের পরবর্তী জন্মও হয় সেই প্রকৃতির সাথে মিল রেখে।

'ক্ষিপাম্যজস্রমশুভান্'—এই কথাটির অর্থ হলো তাদের ক্রমাগত নীচ থেকে নিচুতর যোনিতে পাঠিয়ে দেওয়া। এটি কোনো প্রতিহিংসা নয়, বরং কর্মফলের অমোঘ বিধান। আসুরী যোনি বলতে বোঝানো হয়েছে সেইসব জন্ম যেখানে চেতনার বিকাশ নেই এবং যেখানে হিংসা ও অন্ধকার প্রধান। বারবার আসুরী যোনিতে জন্ম নেওয়ার ফলে তাদের আত্মিক উন্নতির কোনো সুযোগ থাকে না। তারা পশু বা হিংস্র প্রাণীর মতো স্বভাব ধারণ করে এবং জন্ম-মৃত্যুর এই অন্তহীন দুঃখময় চক্রে ঘুরপাক খেতে থাকে। শ্রীকৃষ্ণ এখানে আমাদের এই সতর্কবার্তা দিচ্ছেন যে, মানুষের জীবন হলো এক পরম সুযোগ। যারা এই সুযোগের অপব্যবহার করে নিষ্ঠুর পথে চলে, তারা নিজেদের গতি নিজেরাই রুদ্ধ করে দেয়। এই শ্লোকটি আমাদের সঠিক কর্ম ও দয়ার পথে চলার আবশ্যকতা মনে করিয়ে দেয়, যাতে আমাদের উত্তরোত্তর আধ্যাত্মিক উন্নতি ঘটে।
তাত্ত্বিক গভীরতা: গতি নির্ধারিত হয় চিত্তের ভাবের ওপর। বিদ্বেষ ও নিষ্ঠুরতা মানুষকে পশুর স্তরে নামিয়ে আনে। আসুরী যোনি হলো চেতনার সেই জেলখানা যেখানে আলো পৌঁছানো কঠিন।