॥ অধ্যায় ১৬, শ্লোক ২৪ ॥

তস্মাচ্ছাস্ত্ৰং প্রমাণং তে কার্যাকার্যব্যবসিতৌ ।
জ্ঞাত্বা শাস্ত্রবিধানোক্তং কর্ম কর্তুমিহার্হসি ॥ ২৪ ॥

সরল ভাবার্থ

অতএব, করণীয় এবং অকরণীয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে শাস্ত্রই তোমার প্রমাণ হোক। শাস্ত্রীয় বিধান জেনে তুমি এই জগতে তোমার কর্ম সম্পাদন করো।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

অধ্যায়ের শেষ শ্লোকে শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনের সমস্ত দ্বিধা দূর করে একটি সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড প্রদান করেছেন। 'কার্যাকার্যব্যবসিতৌ'—অর্থাৎ কোনটি করতে হবে এবং কোনটি করা উচিত নয়, তা নিয়ে যখন মনে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়, তখন নিজের ইচ্ছা বা আবেগের বশবর্তী না হয়ে শাস্ত্রের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। শাস্ত্র বলতে এখানে সেই চিরন্তন সত্যগুলোকে বোঝানো হয়েছে যা মানুষের ধর্ম ও কর্ম নির্ধারণ করে।

এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে, জীবন হলো একটি দায়িত্বশীল কর্তব্য পালনের ক্ষেত্র। আমাদের প্রতিটি কাজ যেন উচ্চতর জ্ঞানের দ্বারা পরিচালিত হয়। আসুরিক মানসিকতা দূর করার এটাই হলো প্রধান উপায়। নিজের অহংকার বা বুদ্ধি অনেক সময় ভুল পথে নিয়ে যেতে পারে, কিন্তু শাস্ত্রীয় জ্ঞান (যেমন সত্যনিষ্ঠা, নিষ্কাম কর্ম, অহিংসা) কখনো ভুল পথে নেবে না। কৃষ্ণ বলছেন 'জ্ঞাত্বা'—অর্থাৎ আগে জানতে হবে। না জেনে অন্ধভাবে কাজ করা অন্ধত্বেরই নামান্তর। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী কাজ করলে মানুষ আসুরিক দোষগুলো থেকে মুক্ত থেকে পরম শান্তির দিকে এগোতে পারে। ১৬ নম্বর অধ্যায়ের এই সমাপ্তি আমাদের এক শৃঙ্খলিত ও সার্থক জীবনের পথ নির্দেশ করে। এটি একটি শক্তিশালী আহ্বান যে, আমাদের জীবন যেন কেবল ব্যক্তিগত ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ না হয়ে বরং একটি বৃহত্তর ঐশ্বরিক শৃঙ্খলার অংশ হয়ে ওঠে। এই শিক্ষার মাধ্যমেই দৈবী সম্পদ অর্জন সম্ভব।
তাত্ত্বিক গভীরতা: শাস্ত্র হলো জ্ঞানের আলোকবর্তিকা। যখনই মনে মেঘ জমবে, শাস্ত্রের আলোয় পথ দেখে নিতে হবে। কর্মই ধর্ম, যদি তা শাস্ত্রীয় বিধানে ও ভগবানে সমর্পিত হয়।