॥ অধ্যায় ১৬, শ্লোক ৮ ॥

অসত্যমপ্রতিষ্ঠং তে জগদাহুরনীশ্বরম্ ।
অপরস্পরসংভূতং কিমন্যৎ কামহৈতুকম্ ॥ ৮ ॥

সরল ভাবার্থ

আসুরিক ব্যক্তিরা বলে এই জগত ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও ঈশ্বরহীন। সৃষ্টি কেবল জৈবিক সংযোগ এবং ভোগের লালসা ছাড়া এর আর কোনো মহৎ উদ্দেশ্য নেই।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

এই শ্লোকটি নাস্তিক ও জড়বাদী দর্শনের একটি নিখুঁত চিত্র তুলে ধরেছে। আসুরিক মনের চূড়ান্ত রূপ হলো 'অনীশ্বরম্'—অর্থাৎ বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কোনো স্রষ্টা বা নিয়ন্ত্রক নেই এমন বিশ্বাস। তাদের কাছে সত্য বলে কিছু নেই (অসত্যম) এবং এই জগতের কোনো নৈতিক ভিত্তি নেই (অপ্রতিষ্ঠং)। তারা মনে করে এই বিশাল সৃষ্টি কেবল আকস্মিক কিছু রাসায়নিক বিক্রিয়া বা জৈবিক মিলনের (অপরস্পরসংভূতং) ফল।

তাদের জীবনদর্শনের মূলে থাকে 'কামহৈতুকম্'—অর্থাৎ কাম বা লালসা ছাড়া সব কিছু অর্থহীন। যদি ঈশ্বর না থাকেন এবং মহাজাগতিক কোনো বিচার না থাকে, তবে মানুষ যা খুশি তাই করতে পারে—এই ভয়ংকর অহংকারই আসুরিকতার ভিত্তি। তারা কর্মফল বিশ্বাস করে না, ফলে অন্যের অধিকার ছিনিয়ে নিতেও তাদের বাধে না। আধুনিক যুগেও এই ভোগবাদী ও জড়বাদী চিন্তাধারা মানুষকে স্বার্থপর ও হতাশ করে তুলছে। কিন্তু গীতা আমাদের শেখায় যে, জগত ঈশ্বর দ্বারা পরিচালিত একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা। এই দিব্য উদ্দেশ্য বুঝতে পারলেই মানুষের জীবন সার্থক হয়। আসুরিকদের এই নাস্তিক্য দর্শন আসলে তাদের নিজেদের দায়িত্বহীনতাকে বৈধতা দেওয়ার একটি বৃথা চেষ্টা।
তাত্ত্বিক গভীরতা: জগতের ভিত্তি হলো নৈতিকতা এবং ঈশ্বর। জড়বাদ মানুষকে পশুত্বে নামিয়ে দেয়, আর আধ্যাত্মিকতা তাকে দেবত্বে উন্নীত করে। এই শ্লোকটি পরম সত্যকে অস্বীকার করার পরিণাম সম্পর্কে আমাদের সতর্ক করে।