॥ অধ্যায় ১৬, শ্লোক ৯ ॥

এতাং দৃষ্টিমবষ্টভ্য নষ্টাত্মানোঽল্পবুদ্ধয়ঃ ।
প্রভবন্ত্যুগ্রকর্মাণঃ ক্ষয়ায় জগতোহহিতাঃ ॥ ৯ ॥

সরল ভাবার্থ

এই নাস্তিক ও জড়বাদী দৃষ্টিভঙ্গিতে আবদ্ধ হয়ে, আত্মজ্ঞানহীন ও স্বল্পবুদ্ধি ব্যক্তিরা অত্যন্ত নিষ্ঠুর ও উগ্রকর্মে লিপ্ত হয়। জগতের পরম শত্রু এই ব্যক্তিরা জগতকে ধ্বংস করার জন্যই শক্তিশালী হয়ে ওঠে।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

পূর্ববর্তী শ্লোকে আসুরিকদের যে জগত-ভাবনার কথা বলা হয়েছে, তার ভয়ংকর পরিণাম এখানে বর্ণনা করা হয়েছে। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, যারা জগতকে কেবল ভোগের বস্তু মনে করে, তারা আসলে 'নষ্টাত্মা' অর্থাৎ নিজেদের বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলে। তাদের বুদ্ধি অত্যন্ত সংকীর্ণ বা 'অল্পবুদ্ধি', কারণ তারা কেবল ক্ষণস্থায়ী লাভ দেখতে পায়, অনন্ত আত্মার শান্তি দেখতে পায় না।

এই ধরনের মানুষেরা 'উগ্রকর্মাণঃ'—অর্থাৎ তারা এমন সব কাজ করে যা পরিবেশ ও সমাজের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। তারা কেবল তাদের ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য ধ্বংসাত্মক মারণাস্ত্র তৈরি বা প্রাকৃতিক সম্পদ লুটের মতো কাজ করে। তাদের মূল লক্ষ্য থাকে নিজের আধিপত্য বিস্তার করা, চাই তাতে পুরো পৃথিবীর ক্ষতি হোক না কেন। তাদের কর্মকাণ্ডের একমাত্র ফল হলো 'ক্ষয়ায় জগতঃ'—অর্থাৎ জগতের বিনাশ। তারা যখন প্রভাবশালী হয়, তখন নৈতিকতা ও ধর্মের ভিত্তি নড়বড়ে হয়ে যায়। এটি একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক সতর্কবার্তা; যখন মানুষ উচ্চতর কোনো শক্তি বা ঈশ্বরকে অস্বীকার করে, তখন সে নিষ্ঠুর হয়ে ওঠে। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে, প্রকৃত বুদ্ধিমান হওয়া মানে কেবল চতুর হওয়া নয়, বরং নিজের কাজের সামাজিক ও আধ্যাত্মিক ফলাফল বুঝতে পারা। আসুরিক শক্তি সবসময় ধ্বংসের কারণ হয়, নির্মাণের নয়।
তাত্ত্বিক গভীরতা: জড়বাদ ও নাস্তিকতা যখন ক্ষমতার সাথে মিশে যায়, তখন তা 'অহিতঃ' বা জগতের অমঙ্গলকারী হয়ে ওঠে। প্রকৃত শান্তি কেবল আত্মজ্ঞান এবং জগতের ঐশ্বরিক শৃঙ্খলা স্বীকার করার মাধ্যমেই আসতে পারে।