সরল ভাবার্থ
আধপোড়া (যাতযামং), স্বাদহীন, দুর্গন্ধযুক্ত, বাসি, অন্যের এঁটো এবং অমেধ্য অর্থাৎ অপবিত্র খাদ্য তামসিক ব্যক্তিদের প্রিয়।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
তামসিক আহার হলো অন্ধকার বা জড়তার প্রতীক। শ্রীকৃষ্ণ এখানে এমন সব খাদ্যের কথা বলছেন যা মানুষের জীবনীশক্তিকে শুষে নেয়। 'যাতযামং' মানে এমন খাবার যা রান্না করার দীর্ঘ সময় পর খাওয়া হয় বা যা তার স্বাভাবিক সজীবতা হারিয়েছে। 'গতরসং' মানে হলো যাতে কোনো পুষ্টি নেই। দুর্গন্ধযুক্ত (পূতি) এবং বাসি খাবার মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
এই শ্লোকে 'উচ্ছিষ্টম' বা অন্যের এঁটো খাওয়ার নিন্দে করা হয়েছে, কারণ এতে সূক্ষ্ম শরীরের পবিত্রতা নষ্ট হয়। 'অমেধ্য' বলতে সেইসব খাবারকে বোঝানো হয়েছে যা শাস্ত্রীয় বা স্বাস্থ্যগতভাবে নিষিদ্ধ। তামসিক আহার গ্রহণ করলে মানুষের বুদ্ধি স্থবির হয়ে যায়, শরীরে আলস্য ও দীর্ঘসূত্রতা বৃদ্ধি পায়। এমন মানুষ সবসময় বিষণ্ণতা এবং অজ্ঞানতার অন্ধকারে ডুবে থাকে। আধ্যাত্মিক চেতনার উন্মেষের জন্য তামসিক আহার এক ভয়ংকর বাধা। এটি আমাদের চেতনার স্তরকে পশুর স্তরে নামিয়ে আনে। যারা পরম সত্য অনুসন্ধান করতে চান বা জীবনে বড় কিছু করতে চান, তাদের এই আলস্য সৃষ্টিকারী খাবার থেকে দূরে থাকা উচিত। শ্রীকৃষ্ণ আমাদের মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, আমরা যা খাই, আমাদের চিন্তাধারা ঠিক সেই ছাঁচে গড়ে ওঠে। তাই নিজেকে শুদ্ধ ও সচেতন রাখতে হলে বাসি ও অপবিত্র খাবার বর্জন করে সতেজ ও সাত্ত্বিক আহার গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়।
তাত্ত্বিক গভীরতা: তামসিক আহার মানুষের ঘুম ও আলস্য বাড়ায় এবং পরমাত্মার সাথে সংযোগ ছিন্ন করে। এটি চেতনার অধঃপতন ঘটায় এবং মানুষকে মোহাচ্ছন্ন করে রাখে। শরীরকে মন্দিরের মতো পবিত্র রাখতে হলে আহারের পবিত্রতা রক্ষা করা আবশ্যক।