॥ অধ্যায় ১৭, শ্লোক ১২ ॥

অভিসন্ধায় তু ফলং দম্ভার্থমপি চৈব যৎ ।
ইজ্যতে ভরতশ্রেষ্ঠ তং যজ্ঞং বিদ্ধি রাজসম্ ॥ ১২ ॥

সরল ভাবার্থ

হে ভরতশ্রেষ্ঠ! ফলের আকাঙ্ক্ষা রেখে কিংবা কেবল দম্ভ প্রদর্শনের জন্য যে যজ্ঞ অনুষ্ঠান করা হয়, তাকে রাজসিক যজ্ঞ বলে জানবে।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

রাজসিক যজ্ঞের মূল চালিকাশক্তি হলো স্বার্থ এবং অহংকার। শ্রীকৃষ্ণ এখানে বলছেন যে, অনেক সময় মানুষ বড় বড় যজ্ঞ বা জনকল্যাণমূলক কাজ করে কেবল নিজের নাম উজ্জ্বল করার জন্য (দম্ভার্থম) অথবা বিশেষ কোনো ব্যক্তিগত ফলের আশায় (অভিসন্ধায় তু ফলং)। এখানে যজ্ঞটি কেবল একটি মাধ্যম, মূল লক্ষ্য হলো নিজের প্রচার বা জাগতিক লাভ। রাজসিক ব্যক্তি ভাবে—আমি যজ্ঞ করছি যাতে লোকে আমাকে ধার্মিক বলে অথবা আমি দান করছি যাতে আমার ব্যবসায় উন্নতি হয়।

এই ধরনের কাজের পেছনে কোনো প্রকৃত ভক্তি বা সমর্পণ থাকে না। সেখানে দম্ভ বা জাঁকজমক অনেক বেশি থাকলেও হৃদয়ের গভীরতা থাকে না। রাজসিক যজ্ঞ মানুষকে ক্ষণস্থায়ী তৃপ্তি দিতে পারে, কিন্তু তা মনের ময়লা পরিষ্কার করে না বা তাকে পরম শান্তির দিকে নিয়ে যায় না। এটি এক প্রকার ব্যবসায়িক লেনদেন মাত্র। শ্রীকৃষ্ণ আমাদের সতর্ক করছেন যে, আমরা যদি আমাদের প্রতিটি কাজকে ফলের সাথে জুড়ে দিই, তবে আমরা সবসময় উদ্বেগে থাকব। অহংকার যখন কর্মের সাথে মেশে, তখন সেই কর্ম বিষাক্ত হয়ে ওঠে। এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে, বাহ্যিক চাকচিক্য দিয়ে ঈশ্বরকে পাওয়া যায় না; বরং অন্তরের সরলতা ও নির্লিপ্ততা প্রয়োজন। রাজসিক যজ্ঞ মানুষকে জগতমুখী করে, কিন্তু সাত্ত্বিক যজ্ঞ মানুষকে ঈশ্বরমুখী করে।
তাত্ত্বিক গভীরতা: দম্ভ ও ফলাকাঙ্ক্ষা হলো আধ্যাত্মিক পচনের লক্ষণ। রাজসিক যজ্ঞ মানুষকে বন্ধনে আবদ্ধ করে কারণ এর মূলে থাকে কামনা। অহংকার বিসর্জন না দিলে কোনো যজ্ঞই পূর্ণতা পায় না।