সরল ভাবার্থ
মনের প্রসন্নতা, সৌম্য ভাব (শান্ত ভাব), মৌন, আত্মনিগ্রহ (মনোসংযম) এবং ভাবের পবিত্রতা—এইসমূহকে মানসিক তপস্যা বলা হয়।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
শারীরিক ও বাচনিক তপস্যার চেয়েও গভীর ও কঠিন হলো মানসিক তপস্যা। কারণ মানুষের মন সবচেয়ে চঞ্চল এবং অনিয়ন্ত্রিত। শ্রীকৃষ্ণ এখানে মনের পাঁচটি অবস্থার কথা বলেছেন যা মানসিক তপস্যার অংশ।
১. মনঃপ্রসাদঃ: পরিস্থিতির চাপ থাকা সত্ত্বেও মনকে প্রসন্ন বা আনন্দিত রাখা। ২. সৌম্যত্বং: সবার প্রতি দয়া ও মৈত্রীর ভাব পোষণ করা, কারো অমঙ্গল চিন্তা না করা। ৩. মৌনম: কেবল কথা না বলা নয়, বরং মনের নিরর্থক চিন্তাগুলোকে শান্ত করা। ৪. আত্মবিনিগ্রহঃ: ক্ষতিকর প্রবৃত্তি বা বাসনার হাত থেকে মনকে ফিরিয়ে আনা। ৫. ভাবসংশুদ্ধিঃ: কর্মের পেছনে থাকা উদ্দেশ্য বা মোটিভেশনকে পবিত্র রাখা।
এই মানসিক তপস্যাই হলো সমস্ত আধ্যাত্মিকতার ভিত্তি। কারণ মানুষ মনে যা চিন্তা করে, তা-ই তার কাজে এবং কথায় প্রকাশ পায়। মনের ভেতরে ঘৃণা বা হিংসা রেখে বাইরে মিষ্টি কথা বলা বা শাস্ত্রপাঠ করা নিরর্থক। যখন মন শুদ্ধ হয়, তখনই মানুষ সত্যকে দর্শন করতে পারে। এটি অভ্যাসের মাধ্যমে সম্ভব। নেতিবাচক চিন্তা থেকে নিজেকে সরিয়ে ইতিবাচক ও ঈশ্বরীয় চিন্তায় মনকে নিবিষ্ট করাই হলো মানসিক সাধনা। এই তপস্যা পালন করলে মানুষের ভয়, উদ্বেগ ও মানসিক যন্ত্রণা দূরীভূত হয়। এটি কেবল পরকালের মুক্তির জন্য নয়, বরং এই জীবনেই স্বর্গীয় আনন্দ লাভের পথ। যার মন জয় হয়েছে, তার জন্য পুরো জগতই শান্তিময় হয়ে ওঠে।
তাত্ত্বিক গভীরতা: মন হলো আমাদের শ্রেষ্ঠ বন্ধু বা নিকৃষ্ট শত্রু। মানসিক তপস্যার মাধ্যমে শত্রুরূপী মনকে বন্ধুতে পরিণত করা যায়। অন্তরের পবিত্রতাই হলো ঈশ্বরের প্রকৃত সিংহাসন।