॥ অধ্যায় ১৭, শ্লোক ২০ ॥

দাতব্যমিতি যদ্দানং দীয়তেইনুপকারিণৈ ।
দেশে কালে চ পাত্রে চ তদ্দানং সাত্ত্বিকং স্মৃতম্ ॥ ২০ ॥

সরল ভাবার্থ

'দান করা আমার কর্তব্য'—এইভাবে বিনিময় প্রত্যাশা না করে, উপযুক্ত স্থানে, উপযুক্ত সময়ে এবং যোগ্য ব্যক্তিকে যে দান করা হয়, তাকে সাত্ত্বিক দান বলা হয়।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

দান একটি মহৎ কাজ, কিন্তু সেই দানের গুণগত মান নির্ধারিত হয় দাতার নিয়ত বা উদ্দেশ্যের ওপর। সাত্ত্বিক দানের তিনটি প্রধান বৈশিষ্ট্য শ্রীকৃষ্ণ এখানে উল্লেখ করেছেন।

১. অনুপকারিণৈ: এমন ব্যক্তিকে দান করা যার কাছ থেকে ভবিষ্যতে কোনো উপকার পাওয়ার সম্ভাবনা নেই। বিনিময়ের আশা থাকলে তা দান নয়, তা ব্যবসায়িক বিনিয়োগ হয়ে যায়। ২. দাতব্যমিতি: দান করা আমার আধ্যাত্মিক কর্তব্য—এই বোধ থেকে দান করা। ৩. দেশ, কাল ও পাত্র: সাত্ত্বিক দান অন্ধভাবে করা হয় না। এটি করা হয় সঠিক জায়গায় (যেমন কোনো পবিত্র স্থান বা মন্দির), সঠিক সময়ে (যখন কেউ অভাবগ্রস্ত) এবং যোগ্য ব্যক্তিকে (যিনি সেই দানের অপব্যবহার করবেন না)।

একজন সাত্ত্বিক দাতা ভাবেন যে, ঈশ্বর তাঁকে যা দিয়েছেন তা আসলে জগতের সম্পদ এবং তিনি কেবল তা বিতরণ করছেন। এখানে 'দাতার অহংকার' থাকে না। সাত্ত্বিক দান মানুষের হৃদয়কে উদার করে এবং তাকে আসক্তি থেকে মুক্তি দেয়। যখন আমরা কাউকে সাহায্য করি কেবল তাঁর উপকারের জন্য, তখন আমাদের আত্মা প্রসন্ন হয়। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আমাদের জীবনের প্রতিটি স্তরে এই সাত্ত্বিকতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। কারণ একমাত্র সাত্ত্বিক কর্মই মানুষকে মায়ার বন্ধন ছিন্ন করে ভগবানের কাছাকাছি নিয়ে যেতে পারে। এটি কেবল অর্থ দান নয়, বরং জ্ঞান, সময় বা সহমর্মিতা দানও হতে পারে। দাতার বিশুদ্ধতাই দানের মাহাত্ম্য বাড়িয়ে দেয়।
তাত্ত্বিক গভীরতা: প্রকৃত দান হলো নিজের আসক্তির বিসর্জন। বিনিময়হীন সাহায্যই হলো সাত্ত্বিকতার লক্ষণ। যোগ্য পাত্রে দান করলে তার প্রভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং দাতার অন্তঃকরণ পবিত্র হয়।