॥ অধ্যায় ১৭, শ্লোক ২২ ॥

অদেশকালে যদ্দানমপাত্রেভ্যশ্চ দীয়তে ।
অসৎকৃতমবজ্ঞাতং তত্তামসমুদাহৃতম্ ॥ ২২ ॥

সরল ভাবার্থ

অযোগ্য স্থানে, অশুভ সময়ে, অপাত্রে এবং অবজ্ঞা ও তিরস্কারের সাথে যে দান করা হয়, তাকে তামসিক দান বলা হয়।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

তামসিক দান হলো অজ্ঞতা ও অন্ধকারের চরম নিদর্শন। এখানে দাতা দানের মাহাত্ম্য বোঝেন না। প্রথমত, এই দান করা হয় 'অদেশকালে'—অর্থাৎ এমন জায়গায় বা এমন সময়ে যখন তার কোনো প্রয়োজন নেই বা যেখানে দান করলে অমঙ্গল হতে পারে। দ্বিতীয়ত, 'অপাত্রেভ্যশ্চ'—অর্থাৎ অযোগ্য ব্যক্তিকে দান করা। উদাহরণস্বরূপ, যদি কেউ কোনো নেশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে অর্থ দান করেন যা দিয়ে সে আরও নেশা করবে, তবে সেই দান তামসিক। কারণ এই দান জগতের কল্যাণের বদলে অকল্যাণ ডেকে আনে।

তামসিক দানের আরেকটি অত্যন্ত জঘন্য দিক হলো 'অসৎকৃতমবজ্ঞাতং'—অর্থাৎ দান করার সময় গ্রহীতাকে অপমান করা বা তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা। অনেক সময় মানুষ ভিক্ষুক বা দরিদ্রকে দান করার সময় রূঢ় কথা বলে বা তাকে নিচু করে দেখানোর চেষ্টা করে। এমন দান গ্রহীতার হৃদয়ে ক্ষত সৃষ্টি করে এবং দাতার মনে অহংকারের বিষ ঢুকিয়ে দেয়। শাস্ত্র অনুযায়ী, যাকে দান করা হচ্ছে সে হলো সাক্ষাৎ নারায়ণ; তাকে অশ্রদ্ধা করার অর্থ হলো ঈশ্বরকেই অপমান করা।

তামসিক দান মানুষের নৈতিক অধঃপতন ঘটায়। এটি সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করে কারণ এখানে যোগ্যতার কোনো বিচার থাকে না। যারা কোনো চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই কেবল খেয়ালের বশবর্তী হয়ে বা অশুভ কাজের মদত দিতে দান করে, তারা তামসিক। শ্রীকৃষ্ণ আমাদের শিক্ষা দিচ্ছেন যে, করুণা যেন অন্ধ না হয়। দানের সময় দাতার মনে বিনয় এবং গ্রহীতার প্রতি সম্মান থাকা আবশ্যিক। ত্যাগের আনন্দ তখনই অনুভূত হয় যখন তা শ্রদ্ধার সাথে করা হয়।
তাত্ত্বিক গভীরতা: অপাত্রে দান অধর্মের সমান। শ্রদ্ধাহীন দান আত্মার জন্য বোঝা স্বরূপ। করুণার সাথে বিচারবুদ্ধির মিলনই হলো প্রকৃত ত্যাগের পথ।