॥ অধ্যায় ১৭, শ্লোক ২৪ ॥

তস্মাদোমিত্যুদাহৃত্য যজ্ঞদানতপঃক্রিয়াঃ ।
প্রবর্তন্তে বিধানোক্তাঃ সততং ব্রহ্মবাদিনাম্ ॥ ২৪ ॥

সরল ভাবার্থ

সেইজন্যই শাস্ত্রোক্ত নিয়ম অনুযায়ী যজ্ঞ, দান ও তপস্যা রূপ কর্মসমূহ করার সময় ব্রহ্মবাদীগণ সর্বদা 'ওঁ' এই পবিত্র নাম উচ্চারণ করে তা শুরু করেন।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

'ওঁ' বা ওঙ্কার হলো ব্রহ্মের বা পরমেশ্বরের ধ্বনিময় রূপ। এটি অ-উ-ম—এই তিনটি অক্ষরের সমষ্টি যা জাগ্রত, স্বপ্ন ও সুপ্ত—এই তিন অবস্থাকে অতিক্রম করে তুরীয় বা পরম চেতনার নির্দেশ দেয়। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন যে, যখনই কোনো শুভ কাজ যেমন যজ্ঞ, দান বা সংযম করা হয়, তখন তার শুরুতে 'ওঁ' উচ্চারণ করা একটি আধ্যাত্মিক রীতি। ব্রহ্মবাদী বা আধ্যাত্মিক সাধকগণ জানেন যে, ওঙ্কার ধ্বনি মনের সব বিক্ষিপ্ত ভাবকে শান্ত করে তাকে একমুখী করে তোলে।

যেকোনো কাজের শুরুতে 'ওঁ' উচ্চারণের পেছনে একটি গভীর মনস্তাত্ত্বিক কারণ আছে। এটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, আমরা একা নই এবং এই কাজটি আমাদের ব্যক্তিগত সামর্থ্যে হচ্ছে না; বরং আমরা সেই পরম শক্তির একটি যন্ত্র মাত্র। এটি কাজের সাথে জড়িত অহংকার বা 'আমি করছি'—এই ভাবটিকে সরিয়ে দেয়। যখন কোনো যজ্ঞ বা দান ওঙ্কার ধ্বনির সাথে শুরু হয়, তখন সেই কাজে ব্রহ্মের আশীর্বাদ নেমে আসে।

এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে, প্রাত্যহিক জীবনের ছোট-বড় প্রতিটি কাজই যজ্ঞ হতে পারে যদি তা পবিত্র নামের সাথে শুরু করা হয়। 'ওঁ' হলো জগতের আদি সুর। এই সুরের সাথে নিজের কর্মকে মিলিয়ে দেওয়া মানে হলো প্রকৃতির ছন্দের সাথে নিজেকে একাত্ম করা। এর ফলে কর্মের ক্লান্তি দূর হয় এবং কাজের প্রতি এক অলৌকিক নিষ্ঠা তৈরি হয়। যারা আধ্যাত্মিক মুক্তি চান, তাদের কাছে 'ওঁ' হলো সেই চাবিকাঠি যা দিয়ে হৃদয়ের রুদ্ধ দুয়ার খোলা যায়। ওঙ্কার ধ্বনি আমাদের কর্মকে কামনার ঊর্ধ্বে তুলে নিয়ে শুদ্ধ করে দেয়।
তাত্ত্বিক গভীরতা: ওঙ্কার হলো পরমাত্মার সিগনেচার। শুভ কাজের শুরুতে এর স্মরণ মানুষকে অহংকারমুক্ত করে। পবিত্র ধ্বনিই অপবিত্র মনের ময়লা পরিষ্কার করার শ্রেষ্ঠ উপায়।