সরল ভাবার্থ
হে পার্থ! শ্রদ্ধা ছাড়া যে হোম (যজ্ঞ), যে দান, যে তপস্যা বা অন্য যেকোনো অনুষ্ঠান করা হয়, তাকে 'অসৎ' বলা হয়। তার কোনো ফল ইহকালেও পাওয়া যায় না এবং পরকালেও পাওয়া যায় না।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
এটি হলো ১৭ নম্বর অধ্যায়ের উপসংহার এবং অত্যন্ত কড়া একটি সতর্কবাণী। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ এখানে 'অশ্রদ্ধা'র ভয়ানক পরিণাম বর্ণনা করেছেন। আমরা হয়তো অনেক বড় যজ্ঞ অনুষ্ঠান করলাম, প্রচুর অর্থ দান করলাম বা কঠোর তপস্যা করলাম; কিন্তু যদি আমাদের হৃদয়ে 'শ্রদ্ধা' না থাকে, তবে সেই সব পরিশ্রমই পণ্ড। একে শ্রীকৃষ্ণ 'অসৎ' বলেছেন, যার অর্থ হলো যা নিরর্থক বা অস্তিত্বহীন।
শ্রদ্ধা হলো কোনো কাজের প্রাণশক্তি। যেমন প্রাণ ছাড়া দেহের কোনো মূল্য নেই, তেমনি শ্রদ্ধা ছাড়া কর্মের কোনো পারমার্থিক মূল্য নেই। 'ন চ তৎপ্রেত্য নো ইহ'—অর্থাৎ এই ধরনের শ্রদ্ধাহীন কর্ম এই পৃথিবীতে আমাদের কোনো মানসিক শান্তি বা সম্মান দিতে পারে না এবং মৃত্যুর পরেও আধ্যাত্মিক মুক্তি বা উচ্চতর গতি লাভ করতে সাহায্য করে না। এটি কেবল সময়ের অপচয় এবং শক্তির ক্ষয়।
এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে, আধ্যাত্মিকতায় পরিমাণের চেয়ে গুণের গুরুত্ব বেশি। ছোট একটি দান যদি গভীর শ্রদ্ধা ও ভক্তির সাথে করা হয়, তবে তা কোটি টাকার শ্রদ্ধাহীন দানের চেয়ে শ্রেষ্ঠ। শ্রদ্ধা মানে হলো ঈশ্বর, গুরু এবং নিজের ওপর অটল বিশ্বাস। যখন আমরা অবিশ্বাসের সাথে কোনো কাজ করি, তখন আমাদের মন দ্বিধাগ্রস্ত থাকে, ফলে সেই কর্মের কোনো সুফল ফলে না। শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে এবং আমাদের সবাইকে উৎসাহিত করছেন যেন আমরা যা-ই করি, তা যেন পূর্ণ বিশ্বাস ও একাগ্রতার সাথে করি। বাহ্যিক লোকদেখানো ধর্ম আসলে অধর্মেরই নামান্তর। অন্তরের পবিত্রতাই হলো সত্যকার ইবাদত বা উপাসনা।
তাত্ত্বিক গভীরতা: শ্রদ্ধা হলো সেই বীজ যা থেকে কর্মের সুফল উৎপন্ন হয়। অশ্রদ্ধা হলো আধ্যাত্মিক আত্মহত্যার মতো। ভক্তি ও বিশ্বাসই মানুষকে কর্মবন্ধনের ঊর্ধ্বে নিয়ে যায়।