॥ অধ্যায় ১৭, শ্লোক ৯ ॥

কট্বম্ললবণাত্যষ্ণতীক্ষ্ণরুক্ষবিদাহিনঃ ।
আহারা রাজসস্যেষ্টা দুঃখশোকারময়প্রদাঃ ॥ ৯ ॥

সরল ভাবার্থ

অত্যধিক তিতো, টক, নোনতা, অত্যন্ত গরম, ঝাল, শুষ্ক ও দাহকারক আহার রাজসিক ব্যক্তিদের প্রিয়। এই প্রকার আহার দুঃখ, শোক ও রোগ উৎপন্ন করে।

বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা

শ্রীকৃষ্ণ এখানে রাজসিক আহারের স্বরূপ এবং তার নেতিবাচক প্রভাব বর্ণনা করেছেন। রাজসিক আহার মূলত জিহ্বার সাময়িক উত্তেজনা বা স্বাদ মেটানোর জন্য গ্রহণ করা হয়। যে খাবারে অতিমাত্রায় লঙ্কা, মশলা, নুন বা অম্ল থাকে, তা ইন্দ্রিয়কে উত্তেজিত করে কিন্তু শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করে। ভগবান বলছেন, এই ধরনের খাবার 'দুঃখশোকারময়প্রদাঃ'—অর্থাৎ এটি কেবল সাময়িক স্বাদ দেয় কিন্তু পরিণামে শরীরে রোগ (আময়) এবং মনে অস্থিরতা বা শোক উৎপন্ন করে।

রাজসিক স্বভাবের মানুষ সবসময় চঞ্চল থাকে এবং তাদের খাবারেও সেই উগ্রতা প্রকাশ পায়। বিজ্ঞানের ভাষায় বলতে গেলে, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত ও কড়া খাবার আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে অতি-উত্তেজিত করে তোলে, যার ফলে একাগ্রতা নষ্ট হয় এবং ক্রোধ বৃদ্ধি পায়। আধ্যাত্মিক সাধনায় বা গভীর মনঃসংযোগের কাজে রাজসিক আহার এক বড় বাধা। এটি শরীরের পরিপাক ক্রিয়াকে ব্যাহত করে এবং মনকে কাম ও ক্রোধের বশবর্তী হতে প্ররোচিত করে। শ্রীকৃষ্ণ আমাদের সতর্ক করছেন যে, আমরা যদি শান্তি ও দীর্ঘ জীবন চাই, তবে যেন স্বাদের মোহে পড়ে এমন উগ্র আহার বর্জন করি। আহার কেবল পেট ভরার জন্য নয়, বরং আমাদের চেতনাকে স্থির রাখার জন্য হওয়া উচিত। রাজসিক আহার মানুষকে জড় জগতের ইঁদুর দৌড়ে ক্লান্ত করে তোলে, কিন্তু প্রকৃত আত্মিক শক্তি প্রদান করতে পারে না।
তাত্ত্বিক গভীরতা: রাজসিক আহার হলো অস্থিরতার উৎস। এটি মানুষের ভেতরের রজঃগুণকে বাড়িয়ে দেয়, যা মানুষকে অহংকারী ও ভোগবাদী করে তোলে। আধ্যাত্মিক ও শারীরিক সুস্থতার জন্য এই ধরনের উগ্রতা বর্জনীয়।