সরল ভাবার্থ
সত্ত্বগুণে আবিষ্ট, মেধাবী এবং সংশয়মুক্ত সাত্ত্বিক ত্যাগী ব্যক্তি অকল্যাণকর কর্মের প্রতি দ্বেষ করেন না এবং কল্যাণকর কর্মেও আসক্ত হন না।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
সাত্ত্বিক ত্যাগী ব্যক্তির মানসিক অবস্থা কেমন হয়, তার একটি উজ্জ্বল চিত্র এই শ্লোকে পাওয়া যায়। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, একজন প্রকৃত ত্যাগী হলেন 'সত্ত্বসমাবিষ্ট'—অর্থাৎ যাঁর ভেতরে পবিত্রতা ও জ্ঞান পূর্ণ হয়ে আছে। তাঁর প্রধান লক্ষণ হলো সমত্ব বা মানসিক ভারসাম্য। জীবনে এমন অনেক কাজ থাকে যা আমাদের পছন্দ নয় বা যা করতে গেলে দুঃখ পেতে হয় (অকুশলং কর্ম); সাত্ত্বিক ব্যক্তি সেই কাজগুলোকে ঘৃণা করেন না। আবার যে কাজগুলো আনন্দদায়ক বা লাভজনক (কুশলং কর্ম), সেগুলোতে তিনি অত্যধিক মেতে ওঠেন না।
তিনি 'মেধাবী', কারণ তিনি জানেন যে ভালো ও মন্দ উভয় কর্মই প্রকৃতির গুণ দ্বারা পরিচালিত। তাঁর কোনো 'সংশয়' নেই (ছিন্নসংশয়ঃ)। তিনি বোঝেন যে আত্মা কর্মের ঊর্ধ্বে। সাধারণ মানুষ অপছন্দের কাজ এলে রেগে যায় এবং পছন্দের কাজ পেলে আসক্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু সাত্ত্বিক ত্যাগী কেবল তাঁর কর্তব্যে স্থির থাকেন।
এই শ্লোকটি আমাদের শেখায় যে, জীবনের সব পরিস্থিতিতে শান্ত থাকাটাই হলো প্রকৃত পাণ্ডিত্য। আমরা যখন কোনো অপ্রিয় কাজকে ঘৃণা না করে তা কর্তব্যের খাতিরে সুচারুভাবে করি এবং প্রিয় কাজে আসক্ত না হয়ে নির্লিপ্ত থাকি, তখনই আমাদের আধ্যাত্মিক জয় হয়। এই মানসিক স্থিতিই মানুষকে মোক্ষ বা মুক্তির উপযুক্ত করে তোলে। এটিই হলো জ্ঞানের চূড়ান্ত প্রকাশ, যেখানে রাগ-অনুরাগ বা পছন্দ-অপছন্দ মনের ওপর কর্তৃত্ব করতে পারে না। সাত্ত্বিক ত্যাগী আসলে জগতের সব কিছুর মধ্যেই পরমাত্মার ইচ্ছা দেখতে পান।
তাত্ত্বিক গভীরতা: সমত্বই হলো যোগের প্রাণ। আসক্তি ও বিদ্বেষের ঊর্ধ্বে ওঠাই হলো প্রকৃত মেধাবীর পরিচয়। সংশয়হীন চিত্তই কেবল ঈশ্বরের সান্নিধ্য অনুভব করতে পারে।