সরল ভাবার্থ
হে মহাবাহো! সমস্ত কর্ম সিদ্ধ করার জন্য পাঁচটি কারণের প্রয়োজন হয়। বেদাস্তের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাংখ্য দর্শনে এই কারণগুলো বর্ণিত হয়েছে, তা তুমি আমার নিকট হতে শ্রবণ কর।
বিস্তারিত ধর্মীয় ব্যাখ্যা
মানুষ সাধারণত মনে করে যে সে নিজেই তার সব কাজের একমাত্র কারণ। এই 'অহংকার' থেকেই মানুষের সব যন্ত্রণার শুরু। ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে এক অতি উচ্চস্তরের বিজ্ঞান শিক্ষা দিচ্ছেন। তিনি বলছেন যে, কোনো কাজ করার জন্য কেবল মানুষের ইচ্ছাই যথেষ্ট নয়; এর পেছনে আরও অনেকগুলো শক্তি কাজ করে। সাংখ্য দর্শন বা বেদান্তের এই প্রাচীন জ্ঞান আমাদের আত্মগরিমা চূর্ণ করার জন্য যথেষ্ট।
শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে 'মহাবাহো' বলে সম্বোধন করছেন যেন তিনি তাঁর বীরত্বের ওপর ভিত্তি করে এই কঠিন তত্ত্বটি বুঝতে পারেন। কোনো কর্ম যখন সফল হয়, তখন আমরা গর্ব করি; আবার যখন ব্যর্থ হয়, তখন আমরা ভেঙে পড়ি। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, সব কিছুর নেপথ্যে পাঁচটি বিশেষ উপাদান থাকে। এই পাঁচটি কারণের যেকোনো একটির অনুপস্থিতিতে কাজ পূর্ণ হওয়া সম্ভব নয়।
এই শ্লোকটি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দেয়। আমরা যদি বুঝতে পারি যে আমি একা কোনো কাজের মালিক নই, তবে আমাদের মন থেকে ফলের ভার নেমে যায়। এটি আমাদের অনেক বেশি বিনয়ী ও সংযত হতে শেখায়। জীবনে যা কিছু ঘটে—তা সাফল্য হোক বা ব্যর্থতা—তার পেছনের এই বৈজ্ঞানিক ও আধ্যাত্মিক বিন্যাসটি বুঝতে পারলে মানুষ স্থিতপ্রজ্ঞ হতে পারে। ভগবান এখানে আসলে আমাদের প্রস্তত করছেন পরের শ্লোকগুলোতে সেই পাঁচটি কারণের বিস্তারিত পরিচয় দেওয়ার জন্য। আমাদের কর্মের পেছনে যে এক অদৃশ্য জগত কাজ করে, শ্রীকৃষ্ণ সেই রহস্যেরই উন্মোচন করছেন।
তাত্ত্বিক গভীরতা: কর্মের বিজ্ঞান বোঝা মানেই হলো অহংকার থেকে মুক্ত হওয়া। পাঁচটি উপাদানের সমষ্টিই হলো মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্রিয়া। একক কর্তৃত্বের দাবিই হলো অজ্ঞানতা।